1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই, মূলহোতা গ্রেপ্তার বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন দীপু মনি, কারাফটকের সামনে মেয়ে ও আইনজীবী নিহতদের পাঁচজন বাংলাদেশি, চারজন একই পরিবারের সদস্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পরীক্ষা ভারতে, কেন্দ্র আমিরাত: পরীক্ষার্থীর মাথায় হাত!

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের নাগপুরের ১৮ বছর বয়সী এক মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নিট (NEET) পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতেই চক্ষু চড়কগাছ। প্রবেশপত্রে দেখা যায়, তার পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে! অথচ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে তরুণ শিক্ষার্থীর কাছে কোনো পাসপোর্টই নেই। এমন অদ্ভুত কাণ্ডে চরম বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীর পরিবার।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব নামের ওই শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রটি গত ১৪ জুন ইস্যু করা হয়। সেখানে তার পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আবু ধাবি ইন্ডিয়ান স্কুল’।

ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) সাধারণত প্রবাসী ভারতীয় বা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দেশের বাইরে পরীক্ষার কেন্দ্র দিয়ে থাকে। কিন্তু ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা তালিবের ক্ষেত্রে এমন কেন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রবেশপত্র পাওয়ার পরপরই তালিবের পরিবার এনটিএ-এর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, শেষ পর্যন্ত নাগপুরেরই একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন ওই শিক্ষার্থী। পরিবার জানিয়েছে, কিছুদিন আগেই নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এমনিতেই চরম মানসিক চাপে ছিল তালিব। এর মধ্যে প্রবেশপত্রের এই বড় ভুল তার মানসিক ট্রমা আরও বাড়িয়ে দেয়।

গত রোববার (২১ জুন) আজনি এলাকার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব। তবে পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের বাইরে গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা।

আব্দুল্লাহর বাবা চিকিৎসক ড. তালিব বলেন, এই পরীক্ষাটি তার ছেলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন্দ্র জটিলতার কারণে গত কয়েকটা দিন তাদের পুরো পরিবারকে চরম উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, প্রবেশপত্রের এই কাণ্ডে আব্দুল্লাহ এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে পরীক্ষাই দিতে চাচ্ছিল না। রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত অনেক বুঝিয়ে-সুনিয়ে পরিবারের সবাই মিলে তাকে রাজি করান। গণমাধ্যমের ক্যামেরা এড়াতে আব্দুল্লাহ মুখে মাস্ক পরে কেন্দ্রে আসেন।

ড. তালিব বলেন, আবু ধাবির নাম দেখে আব্দুল্লাহর কান্না কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। পরে ওষুধ খাইয়ে ওকে শান্ত করতে হয়। ছেলের এই অবস্থা দেখে ওর মা-ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিদেশ থেকে বড় ভাই আর মুম্বাই থেকে বোন বারবার ভিডিও কল করে ওকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সাহস জুগিয়েছে।

তিনি আরও জানান, আব্দুল্লাহর স্বপ্ন ভারতে এমবিবিএস শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া। পরীক্ষা শেষে এই মানসিক ধকল কাটিয়ে উঠতে ছেলেকে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে পরিবার।

এদিকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) দাবি করেছিল, শিক্ষার্থীর প্রোফাইল থেকেই আবু ধাবি কেন্দ্রটি নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে এনটিএ’র এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে ড. তালিব তার ছেলের অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমি আর আব্দুল্লাহ ঘরে বসেই আবেদন ফরম পূরণ করেছিলাম। পরে যখন কেন্দ্র পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়, আমরা নাগপুর, ভান্ডারা ও ওয়ার্ধা জেলা নির্বাচন করি। কিন্তু গত ১৪ জুন থেকে আমাদের অ্যাকাউন্টে লগইন করা যাচ্ছিল না, বারবার ভুল পাসওয়ার্ড দেখাচ্ছিল। দুদিন আগে যখন অনেক চেষ্টায় লগইন করলাম, দেখি কেন্দ্র চলে গেছে আবু ধাবিতে!

ড. তালিব প্রশ্ন তোলেন, যে ছেলের কোনো পাসপোর্ট নেই, আবু ধাবিতে কোনো আত্মীয় নেই, সে কেন ওই শহরকে কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেবে? তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে শুধু তালিব একাই নন, অনেক অভিভাবকই অভিযোগ করেছেন যে তাদের সন্তানরা কোনো আবেদন না করা সত্ত্বেও প্রবেশপত্রে পরীক্ষার কেন্দ্র বদলে গেছে। গত মাসে নিট পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর এনটিএ-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে তারা আগের কেন্দ্র রাখতে চায় নাকি নতুন কেন্দ্র বেছে নিতে চায়। অনেক অভিভাবকই নাগপুরের স্থানীয় কেন্দ্র পুনর্বহালের বিকল্পটি বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর দেখা যাচ্ছে অনেকের কেন্দ্র পড়েছে নিজ জেলার বাইরে, দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকায়। এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com