1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশা নিতেই চালককে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ নালিতাবাড়ীতে অঙ্গীকার ফাউন্ডেশন’র স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ফল গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই, মূলহোতা গ্রেপ্তার বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ

পতিত জমিতে লটকন চাষে বছরে প্রায় ২ লাখ টাকার আয় হামিদুল্লাহর

  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

আসিফ আমানুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে পতিত জমিতে লটকন চাষ করে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করছেন মোঃ হামিদুল্লাহ নামক এক ইউপি সদস্য। মাত্র ৩৫ শতক জমি থেকে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. হামিদুল্লাহ তার এই লটকন বাগানকে বানিজ্যিক আকারে রূপ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও এখন এলাকায় তিনি সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেই বেশি পরিচিত। লটকন চাষ থেকে পাওয়া আয়েই তিনি সংসার চালানো, সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।

হামিদুল্লাহ জানান, ২০০৭ সালে নরসিংদীতে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে প্রথম বাণিজ্যিক লটকন বাগান দেখে এ ফল চাষে আগ্রহী হন। পরে সেখান থেকে ১২০টি চারা এনে নিজের ৩৫ শতক পতিত জমিতে রোপণ করেন। তবে পরিচর্যার অভাবে প্রথম দফায় মাত্র ৫১টি গাছ টিকে থাকে। পরে নতুন করে পরিচর্যায় মনোযোগ দিলে বাগানটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।

২০১৪ সালে প্রথমবার বাগান থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফল বিক্রি করেন তিনি। ওই বছর স্থানীয় পাইকারদের কাছে লটকন বিক্রি করে আয় হয় ১৬ হাজার টাকা। পরের বছর আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকায়। উৎপাদন বাড়তে থাকায় ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো আয় এক লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেন তিনি। চলতি মৌসুমে সেই আয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

হামিদুল্লাহ বলেন, “শুরুর দিকে অনেক ভুল করেছি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এখন এই বাগানই আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।”

তিনি জানান, লটকন গাছে রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়। বছরে এক থেকে দুইবার কীটনাশক প্রয়োগ করলেই চলে। তবে ভালো ফলনের জন্য জৈব সার ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়া জরুরি।

তার তিন ছেলে এখনো একই পরিবারের সদস্য হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করছেন। বড় ছেলে ব্যবসা করেন, মেজ ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং ছোট ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার বাগানের দেখভাল করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন সময়-সময় বাগান পরিদর্শন করে আধুনিক পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “হামিদুল্লাহ মেম্বারের সফলতা দেখে অনেক তরুণ এখন লটকন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পতিত জমিকেও যে লাভজনক সম্পদে পরিণত করা যায়, তিনি তার বাস্তব উদাহরণ।”

গারো পাহাড়-সংলগ্ন এলাকায় সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে লটকনের চাষ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে লটকন চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com