1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড

  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও বিশ্বকাপ শেষটা দারুণভাবে রাঙিয়েছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক, ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোল এবং শেষদিকে জুড বেলিংহ্যামের একক নৈপুণ্যে জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই মাঝমাঠে ফ্রান্সের ডেজিরে দুয়ের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন ডেকলান রাইস। বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার।

১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে বক্সে উঠে আসা এজরি কনসা অসাধারণ হেডে জাল খুঁজে নেন। ফরাসি রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনায়াসেই গোল করেন এই ডিফেন্ডার।

ফ্রান্স তখনও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে, কিন্তু ৩৭তম মিনিটে আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠান বুকায়ো সাকা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও গোল করেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার। এবারও আক্রমণের সূচনা করেন রাশফোর্ড, আর সহজ ফিনিশে প্রথমার্ধেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন সাকা। বিরতিতে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে নিজের নবম গোল করে লিওনেল মেসির সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যার রেকর্ডেও ভাগ বসান ফরাসি অধিনায়ক।

মাত্র ছয় মিনিট পর আরেকটি গোল শোধ করে ফ্রান্স। ইংল্যান্ডের আক্রমণ ভেস্তে যাওয়ার পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন।

৬৭তম মিনিটে আবারও গোল করেন এমবাপ্পে। অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান ৪-৩ করেন তিনি।

একসময় মনে হচ্ছিল, অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে যাচ্ছে ফ্রান্স। কিন্তু সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন বুকায়ো সাকা। ৮৬তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাতে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বেড়ে হয় ৫-৩।

যোগ করা সময়েও নাটক থামেনি। ৯০+৬ মিনিটে দায়ো উপামেকানোর পাস থেকে ডান দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন ওসমান দেম্বেলে। ব্যবধান আবার এক গোলে নেমে আসে (৫-৪)।

তবে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ডই। ৯০+৮ মিনিটে ম্যাচে শেষ আঘাতটি হানেন জুড বেলিংহ্যাম। বদলি হিসেবে নেমে মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর সপ্তম গোল। তার এই গোলেই ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের দল।

শেষ বাঁশি বাজার পর ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে মাঠ। অন্যদিকে, বিদায়ী ম্যাচে হার নিয়েও হাসিমুখে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ও ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হলেও ১০ গোলের এই লড়াই দর্শকদের উপহার দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় এক ম্যাচ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com