
আসিফ আমানুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় ১০ বিসিআইসি ডিলারসহ ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বিকেলে তাদের জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কারাগারে যাওয়া ১০ ডিলার হলেন মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন। অন্য পাঁচজন হলেন ডিলার পরিচালনাকারী আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গত ২২ জুলাই সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত মৌসুমে সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শনের সময় সার বিক্রির রেজিস্ট্রার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করা হয়। পরে এসব নথি যাচাই করে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রি করেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং কৃষকদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়।
মামলার আসামিরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন।
জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তারা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে পিপি আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, আসামিদের মধ্যে ১৫ জন উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করায় তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। এদের মধ্যে একজনের জামিনের সময় থাকায় তাকে জামিন দেয়। উল্লেখিত মামলার ২০ জন আসামি বিভিন্ন সময়ে আট সপ্তাহ করে জামিন মঞ্জুর করে নিয়ে আসেন উচ্চ আদালত থেকে।