
শেরপুর : শেরপুরের শ্রীবরদীতে সরকারি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা ঘিরে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সহোদর ভাই ও ফুপাতো ভাই, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রীসহ দলীয় নেতাদের নাম রয়েছে। এ ছাড়া জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির নামও তালিকায় রয়েছে।
উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১টি স্থানের ডিলার নিয়োগে ৮৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৩২ জনের নাম সুপারিশ করা হয়। পরে তালিকাটি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করা যোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ভিত্তিতে কাউকে কাউকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। সিংগাবরুণা ইউনিয়নের আবেদনকারী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান বাবুল দাবি করেন, তিনি ১৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য একজন দ্বিগুণ অর্থ দেওয়ায় ডিলারশিপ পেয়েছেন।
তালিকায় থাকা রাণীশিমুল ইউনিয়নের ‘মেসার্স আলম ট্রেডার্স’-এর পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে মামলার বাদী আদালতে নারাজি দেওয়ার পর মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় রাণীশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার আছলাম জেলা প্রশাসকের কাছে এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান উজ্জল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ‘জোবায়ের এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হাসান এবং শ্রীবরদী পৌরসভার ‘মেসার্স লিখি ট্রেডার্স’-এর মালিক মাহমুদা আক্তার তারানা, যিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রী। এসব নিয়োগে যোগ্যতা ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদ পড়া আবেদনকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীদের নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে সুপারিশ করা হয়েছে এবং এটি কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।