
শেরপুর : ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেরপুরে শেষ করা হয়েছে সরকারীভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। নির্দিষ্ট কমিশনে আঁতাত করেই এই ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের আওতায় শেরপুর সদর উপজেলায় চুক্তি করা হয়েছে ৪৩টি চালকলের সাথে। যার মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের মালিকানাধীন অন্তত ১৫টি মিল। এরমধ্যে ২৪ এর আন্দোলনে ৪ আগস্ট শেরপুরে ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামীও রয়েছেন।
জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের চুক্তিবদ্ধ তালিকার শীর্ষে এক এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে রয়েছেন মেসার্স মর্ডান রাইস মিলস প্রাইভেট লিমিটেড ও শ্রাবণ-বাঁধন অটোমেটিক চালকল। খাদ্য বিভাগের চুক্তিতে রয়েছেন শেরপুরে ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া লিটনের মালিকানাধীন চাল কল। তালিকায় ৪ নম্বরে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সদু অটো চালকলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ দুলাল মিয়া, ৮ নম্বরে রয়েছেন ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আরেক পলাতক আসামি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলীর স্বত্বাধিকারী সেলিম রেজা এন্ড ফরিদা ইয়াসমিন অটো চাউল কল, তালিকার ২১ নাম্বরে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য এবং সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মেসার্স ওয়াহেদ অটো রাইস মিল এর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ হায়দার আলী, তালিকার ২৯ নম্বরে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য ও শেরপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সাবেক সভাপতি মেসার্স মেঘনা রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোঃ আসাদুজ্জামান রওশন এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাপস সাহা। এছাড়াও তালিকার ৪৩ জনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের মালিকানাধীন মিল চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
এরমধ্যে গোলাম কিবরিয়া লিটন এর মেসার্স মর্ডান রাইস মিলস প্রাইভেট লিমিটেডে ৩২২.৭৭০ মেট্রিকটন ও শ্রাবণ-বাঁধন অটোমেটিক চালকলে ৪৫১.৮৯০ মেট্রিকটন, আলহাজ্ব দুলাল মিয়ার সদু অটো চালকলে ৭১৫.৫০০ মেট্রিকটন, সাবেক এমপি ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলীর সেলিম রেজা এন্ড ফরিদা ইয়াসমিন অটো চাউলকলে ৫০৩.৫২০ মেট্রিকটন, আলহাজ্ব হায়দার আলী স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ অটো রাইস মিলে ৮৫৮.৬০০ মেট্রিকটন এবং আসাদুজ্জামান রওশন এর মেঘনা রাইস মিলের অনুকূলে ৩০.১২০ মেট্রিকটন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেরপুর সদর উপজেলায় এবার সরকারিভাবে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় সাড়ে ২১ হাজার মেট্রিকটন। এরমধ্যে সেদ্ধ চাল ১৯ হাজার ৬৯০ মেট্রিকটন এবং সুগন্ধি আতপ চাল ১ হাজার ৮২৬ মেট্রিকটন।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিবদ্ধ মিলগুলোর সাথে রয়েছে নির্দিষ্ট হারে কমিশন। এছাড়াও ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেট করে ধান সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন করায় অধিকাংশ কৃষকই সরকারী খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ওই সিন্ডিকেটের ফলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পকেটস্থ হয়েছে মোটা অংকের টাকা।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হক ভূঁইয়া জানান, চুক্তিবদ্ধ মিলাদের তালিকা প্রস্তুত করার সময় উল্লেখিত আওয়ামী লীগ নেতাদের মিলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তখন তারা এ বিষয়ে কোন বাধ্যবাধকতা জানাননি। ফলে তাদের মিলের সঙ্গে মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাদেরকে বাছাই করে বাদ দেওয়া হলে শেরপুরে বরাদ্দের পরিমাণ কমে যেতো।