1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আদমজী ইপিজেডে ভূত আতঙ্ক, একদিনের ছুটি ঘোষণা টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ পাউরুটি কিনতে গিয়ে আপন ২ বোনকে ধর্ষণচেষ্টা, দোকানি পলাতক ছাদে মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, পেশাগত যোগ্যতা হবে পদোন্নতির মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দিনেই ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার খালেদা জিয়ার সাজে অভিনেত্রী চমক, যা বলছেন নেটিজেনরা আজ বঙ্গভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি, দেওয়া হবে গার্ড অব অনার ওড়িশা উপকূলে বাংলাদেশিসহ ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবে গেছে কার্গো জাহাজ

বান্দরবানে এক নান্দনিক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে  

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

বান্দরবান প্রতিনিধি : পাহাড়, প্রকৃতি ও আদিবাসী মানুষের অস্তিত্বসংকটের গভীর ও করুণ বাস্তবতা। কোটি কোটি বছর পুরোনো পাথর ও জীবিত প্রাণ একই দাঁড়িপাল্লায় বিক্রি হওয়ার মধ্য দিয়ে মানব লোভ ও পণ্যীকরণের নির্মমতা ফুটে উঠেছে। তক্ষক, কুকুর, শিশু ও প্রবীণ নারীর প্রতীকী উপস্থিতি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, স্মৃতি ও টিকে থাকার লড়াইকে এই ক্যানভাসজুড়ে তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার(১৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৫ টায় বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে চিত্রশিল্পী খিং সাই মং মার্মার একক “রোয়া-দ্ব” শিরোনামে ৪ দিনব্যাপী খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীতে এমন শিল্পকর্ম দেখা গেছে। এ চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, খিং সাই মং মার্মার বিভিন্ন সময়ে আঁকা মোট ২৭টি শিল্পকর্ম নিয়ে এক মনোমুগ্ধকর চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই সার্বজনীন চিত্র প্রদর্শনীটি ১৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

চিত্র প্রদর্শনীকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ শিল্পকর্মের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, আবার কেউ মনোযোগ দিয়ে ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে শিল্পীর ভাবনা ও শিল্পকর্মের অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছেন।

দর্শনার্থী লেলুং খুমী বলেন, বান্দরবানে এটাই প্রথম এমন ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র প্রদর্শনী, যেখানে পাহাড়ি আদিবাসীদের জীবন, জীবিকা ও নিজস্ব সংস্কৃতি-প্রথার বাস্তব ও প্রাণবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর  জীবনযাত্রা ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক শিল্পীর তুলিতে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরেক দর্শনার্থী মংপ্রু মার্মা বলেন, এ চিত্র প্রদর্শনীতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, তাদের বাস্তব জীবনচিত্র এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন জীবনদর্শন অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি শিল্পকর্মে পাহাড়িদের জীবনযাপন, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ছাপ গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের প্রকৃতি, বন-পাহাড়, নদী-ঝিরি এবং সামগ্রিক বাস্তুসংস্থানও শিল্পীর তুলিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।

চিত্রশিল্পী খিং সাই মং মারমা জানান, বাংলাদেশে বান্দরবান জেলা অনন্য। সাংস্কৃতিক ও জাতিগত বৈচিত্র্য, যেখানে একসঙ্গে ১২টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও রুক্ষতার বৈপরীত্য, প্রতিকূল আবহাওয়ায় মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম, বিলুপ্তপ্রায় জনগোষ্ঠীর ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি, পাশাপাশি সুপেয় পানির অভাব ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো সামাজিক বাস্তবতাগুলো বারবার আমার চিত্রকর্মকে প্রভাবিত করেছে।

তিনি আরো জানান, রঙ-তুলির আঁচড়ে আমি আমার ভূমি ও জনগোষ্ঠীর আনন্দ, গৌরব ও হাহাকারের কথা বলতে চেয়েছি। বান্দরবানের ইতিহাসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যথাযথভাবে আয়োজিত এটিই প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। ভবিষ্যতে আরও অনেকেই এমন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসবেন, এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com