1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে মেজাজ গরমের পর আমার কোনো গ‍্যারান্টি নাই: পরীমণি রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেই এমপি-মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা নালিতাবাড়ীতে একুশে পাঠচক্রের ১৪৭তম আসর অনুষ্ঠিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড, অন্য ৭ জনের যাবজ্জীবন ড.ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন দীপু মনি ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটাভুটিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

সাঙ্গুতে নৌকা চালিয়ে শিক্ষকদের বেতন, এবার জাতীয়করণ হচ্ছে তিন্দু বিদ্যালয়

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি : পাহাড় আর নদীঘেরা দুর্গম জনপদে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত গড়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা জোগাতে বিদ্যালয় বন্ধ দিনে সাঙ্গু নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে আয় করেছেন তিনি। তার সেই আত্মত্যাগ ও নিরলস প্রচেষ্টায় টিকে থাকা বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবার জাতীয়করণের ঘোষণায় নতুন আশার আলো দেখছে।

থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ছয়জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে আসছেন।

অর্থসংকটের কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় একসময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিলেন জেলা প্রশাসনের দেওয়া ইঞ্জিনচালিত নৌকা পরিচালনা করে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের জন্য কিছু আয় করতে শুরু করেন। নৌকা থেকে পাওয়া আয়ের বড় একটি অংশ তিনি শিক্ষকদের বেতন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা ব্যয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করেন।

তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের জীর্ণ টিনশেড ভবনের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটিতে পাঠদান চলছে এবং একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পেছনের একটি কক্ষ ছাত্রাবাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে নবম শ্রেণিতে ৪ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৯ জন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮ জনসহ মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থী থংয়াং খুমী, রুমি খেয়াং ও থুইমেচিং মারমা জানায়, দুর্গম এলাকা ও পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে অনেক সময় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে তাদের মতো শিক্ষার্থীরা আরও ভালো শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

সহকারী শিক্ষক পুচিংমং মারমা বলেন, শিক্ষকদের বেতন নিশ্চিত করতেই প্রধান শিক্ষক নিজেই নৌকা চালাতে হয়েছে। তবে দীর্ঘ ছয়-সাত বছর ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা অনেক শিক্ষক জাতীয়করণের শর্তের কারণে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিলেন বলেন, আমি এই দুর্গম এলাকার সন্তান। একসময় এখানে এসএসসি পাস শিক্ষার্থীও পাওয়া কঠিন ছিল। তাই বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। নৌকা চালিয়ে যে আয় হয়েছে, তা শিক্ষকদের বেতন ও বিদ্যালয়ের ব্যয়ে ব্যবহার করেছি। বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারি হলে এই অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা কম খরচে শিক্ষার সুযোগ পাবে।

তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, দুর্গম এ অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার সুযোগ পাবে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ফয়সাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে তিন্দু ও রেমাক্রিসহ দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং এ অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com