
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : দীর্ঘদিন যাবত গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে নালিতাবাড়ী এসে পাইকারী হাঁস ক্রয়-বিক্রয়ের জেরে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মারধর করে আড়াই লাখ টাকা জোর করে রেখে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক পাইকার।
অন্যদিকে সরবরাকৃত হাঁস ফেরত পাঠিয়ে আগাম দেওয়া টাকা দাবীকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডা হয়েছে বলে জানিয়ে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাঁস সরবরাহকারী শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আশাপুর গ্রামের হাঁসের পাইকার আরিফুল ইসলাম। গত প্রায় ৮-১০ বছর ধরে নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে হাঁসের বাচ্চা বিক্রি ও প্রাপ্তবয়স্ক হাঁস ক্রয় করেন। এরই সূত্র ধরে কলসপাড় ইউনিয়নের গাগলাজানি গ্রামের অপর পাইকার শফিকুলের সাথে তার হাঁস বেচা-কেনার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় বছরখানেক আগে প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁস কিনে দিতে শফিকুলকে ৬০ হাজার টাকা আগাম দেন রফিকুল। কথামতো শফিকুল বিভিন্ন জায়গা থেকে হাঁস সংগ্রহ করে এক পিকআপ ভর্তি হাঁস সরবরাহ করেন আরিফুলের কাছে। সরবরাহকৃত ওইসব হাঁস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রফিকুল তা ফেরত পাঠান এবং আগাম দেওয়া টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
এদিকে শফিকুল ১০ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং আরিফুলের সাথে বেচাকেনা স্বাভাবিক রাখেন। গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) শফিকুলের কাছে পাওনা বাকী ৫০ হাজার চাইতে রাতে তার বাড়ি যান আরিফুল। সেখানে যাওয়ার পর উভয়ের মাঝে বাকবিতন্ডা বাধে।
আরিফুল অভিযোগ করেন, পাওনা ৫০ হাজার টাকা দেই-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে রাতে তাকে মারধর করে সাথে থাকা আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় শফিকুল। পরে রবিবার তিনি জোর করে নিয়ে যাওয়া আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার ও পাওনা ৫০ হাজার টাকা আদায়ে নালিতাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দুপুরে পুলিশ ঘটনার তদন্তে গেলে শফিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তবে তার স্ত্রী পাইকার আরিফুলকে ৫০ হাজার টাকা পাওনাদার স্বীকার করে জোর করে আড়াই লাখ টাকা রেখে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।