1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
তেলের বাজারে বড় উত্থান একলাফে ১০৭ ডলার পঞ্চগড়ে গভীর রাতে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ প্রধান শিক্ষক নেই ৪৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে, সহকারীর পদ খালি ৪৯৬টি এশার নামাজ পড়ে ফজরে এসে মুসল্লিরা দেখেন মসজিদ বিলীন পদ্মায় ৫ আগস্টের পর দেশে কোনো গায়েবি মামলা হয়নি: আইনমন্ত্রী ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি নালিতাবাড়ীতে ২৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ ৪ জন গ্রেফতার ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে আসবে, এটা শুধুই গুজব: বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলার কাগজ ডেস্ক : সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং বিভিন্ন নিয়োগ, পদায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগসহ ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কমিশন এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে।

নতুন অভিযোগগুলো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগর ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ গড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আসিফের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষের তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে।

তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগের একটি অভিযোগের অনুসন্ধান ইতোমধ্যে চলছে। নতুন অভিযোগগুলোও ওই অনুসন্ধানের আওতায় এনে খতিয়ে দেখা হবে।

কী কী অভিযোগ
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডারেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের বিনিময়ে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের ৬০ কোটি টাকাসহ এসব চার নিয়োগে অভিযোগের মোট অঙ্ক ১৮৭ কোটি টাকা বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও দামি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের ‘গ্রিন গ্রুপে’ বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। চার দেশের হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে।

পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

তবে দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি এবং অনুসন্ধানের পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com