1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ক্লোজড নিজ দলের কর্মী ছাড়া জামায়াত অন্য কাউকে ভিক্ষাও দেয় না: এমপি খোকন স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে চলতো ডিজে পার্টি, মাদক-নারীসহ আটক ৮৪ ‘ক্রেন’ দিয়ে চা-বিস্কুট পরিবেশন করেন নেত্রকোনার হাতেম নতুন ছবি প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়া জানালো কিম জং উন বেঁচে আছেন নকলায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার নকলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রাব্বেনুর চৌধুরী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক সহায়তা প্রদান ইউনিয়ন নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী

‘ক্রেন’ দিয়ে চা-বিস্কুট পরিবেশন করেন নেত্রকোনার হাতেম

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

নেত্রকোনা: চেয়ারে বসেই নিজের তৈরি ‘কাঠের ক্রেনের’ হাতল ঘোরান মো. হাতেম আলী (৫২)। আর ক্রেনটিতে ঝোলানো থালার মতো পাত্র দোকানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে থাকা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয় চা ও অন্যান্য পণ্য। এতে ক্রেতাদের হাতে পণ্য তুলে দিতে বারবার আসন ছেড়ে উঠতে হয় না হাতেমকে। ক্রেতারাই তার তৈরি এই বিশেষ যন্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘ক্রেন’।

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পাশে জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন বারহা বোর্ডবাজারে হাতেম আলীর দোকান। কাঠ, তার ও বিয়ারিং দিয়ে নিজেই বিশেষ এই যন্ত্র তৈরি করেছেন তিনি। তার দাবি, এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।

হাতেম আলীর মূল পেশা কাঠমিস্ত্রির কাজ। তিনি বারহা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কাঠের কাজের পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে চায়ের দোকানও চালাচ্ছেন তিনি।

হাতেম আলী বলেন, এখন কাজের লোক পাওয়া যায় না। একজন কর্মচারী রাখলেও বেতন ও খাওয়া মিলিয়ে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ। তাই নিজেই কিছু একটা ব্যবস্থা করার কথা ভাবি। পরে ক্রেনটি তৈরি করি। এখন চেয়ারে বসেই হাতল ঘুরিয়ে দোকানের ভেতর ও বাইরের ক্রেতাদের কাছে চা ও অন্যান্য পণ্য পৌঁছে দিতে পারি।

হাতেম আলীর উদ্ভাবনী কাজ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে রেললাইনে মালামাল পরিবহণের জন্য বিয়ারিং ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের গাড়ি তৈরি করেছিলেন। কাঠ দিয়ে মানুষের অবয়বও তৈরি করতে পারেন তিনি।

সোমবার বিকালে হাতেম আলীর দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন ক্রেতা দোকানের বেঞ্চ ও চেয়ারে বসে আছেন। আর হাতেম আলী চা তৈরি করে ক্রেনে ঝোলানো স্টিলের থালায় কাপগুলো রেখে হাতল ঘোরাচ্ছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাপগুলো পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। শুধু চা নয়, পান-সিগারেট, বিস্কুট ও টাকাও এভাবে আদান-প্রদান করছেন তিনি।

চা-পান খেতে আসা তুতিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, হাতেম আলী সব সময়ই ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করেন। এর আগেও তার তৈরি নানা জিনিস এলাকায় সাড়া ফেলেছিল।

বারহা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল মালেক বলেন, এসব কাজের জন্য এলাকার মানুষের কাছে হাতেম আলী পরিচিত। তার দোকানে অনেকেই চা খেতে আসেন।

স্থানীয় লোকজনের মতে, ব্যতিক্রমী কিছু করতে পছন্দ করেন হাতেম আলী। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও ভালো কিছু করতে পারবেন তিনি।

স্থানীয় জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, হাতেম আলী একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। শুধু এটি নয়, এর আগেও তিনি ব্যতিক্রমী বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com