
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মৃত্যু হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তার নতুন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ। ছবিগুলোতে কিমকে জুতা ও নারীদের পোশাক পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ঠিক কখন সেগুলো তোলা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ছবিতে কিমকে একটি পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে দেখা যায়। কোথাও তাকে শিশুদের জুতা পরীক্ষা করতে, কোথাও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং অন্য একটি ছবিতে পুতুলে প্রদর্শিত নারীদের কোটের হাতা ছুঁয়ে দেখতে দেখা গেছে।
কেসিএনএ জানিয়েছে, সোমবার প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন কিম। তবে তার মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
ছবিগুলো প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, ৪২ বছর বয়সী কিম গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে গেছেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বেইজিংয়ে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ও চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ানজুন শিয়ে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এসব দাবি করেন। প্রথমে তিনি কিমের মৃত্যুর কথা জানান এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সংকটের আশঙ্কায় চীন পিয়ংইয়ংয়ে ৯ হাজার সেনা পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন।
পরে শিয়ে অভিযোগ করেন, গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর কিমের চিকিৎসার জন্য শনিবার বেইজিংয়ের পেকিং ইউনিয়ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের একটি দল উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো হয়। তার দাবি অনুযায়ী, কিম পরে কোমায় চলে গেলে তাকে বেইজিংয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এরপর গোপনে তার মরদেহ উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন শিয়ে।
তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো চিকিৎসা নথি, ছবি, শনাক্তযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জনগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তা উঠে আসে। দ্য সান সংবাদটিকে যাচাই না হওয়া জল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে।
এসব গুঞ্জনের মধ্যে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং গোপনীয়তাপূর্ণ দেশটির ক্ষমতা নিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নতুন ছবিগুলোকে কিমের শারীরিক অবস্থা ও পরিণতি নিয়ে জল্পনা প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
কিমের স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের বিষয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানায়, কিমের ওজন প্রায় ১৪০ কেজি। গুরুতর স্থূলতার কারণে তার হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি বলেও জানায় সংস্থাটি।
তবে গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, কিমের গুরুতর অসুস্থতার কোনো উল্লেখযোগ্য লক্ষণ তারা শনাক্ত করেনি। একটি নৌবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনের সময় তার সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ওঠার সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে।
কিমের মৃত্যু নিয়ে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কিম মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া এবং পরে দেশটির আইনপ্রণেতা হওয়া জি সিওং-হো। তখন তিনি নিজের দাবির বিষয়ে ‘৯৯ শতাংশ নিশ্চিত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। পরে কিমকে জনসমক্ষে দেখা গেলে নিজের ভুল দাবির জন্য ক্ষমা চান জি।
ছয় বছর আগের সেই দাবিও এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু অ্যাকাউন্ট পুরোনো ঘটনাটিকে কিমের মৃত্যুর নতুন প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে।
সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট