1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৬

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলার কাগজ ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

আদালতের এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯), ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান (৩১), মো. সোহেল রানা (৩২), মো. মুকুল গাজী (২৬), মাহফুজুর রহমান (২২) ও মো. জিয়াউল ইসলাম (৩৫)। তাদের মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান ডিজিএফআইয়ের সদস্য। আর সোহেল রানা আনসার বাহিনীর সদস্য।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল ইসলাম রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তিনি তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান।

পরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এই আসামিদের গত শনিবার রাতে শ্যামলী এলাকা থেকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানা–পুলিশ। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, তার থানার একটি টহল টিম রাত তিনটার দিকে শ্যামলী এলাকায় একটি গাড়ি থামায়। ওই গাড়িতে একজন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সদস্যদের জানান। তখন পুলিশ ওই গাড়ির সবাইকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিকে অপহরণের বিষয়টি জানা যায়। ঘটনাটি মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় হওয়া আটক ব্যক্তিদের ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সোহেল রানা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর প্রতিবেশী। তার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে আসামি সোহেল তাকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের রোড নম্বর ৬-এর ১৭ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার ২৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে সোহেল ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর অন্য কয়েকজন ওই বাসায় এসে ভুক্তভোগীকে আটকে রাখেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করেন। পরে তারা আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এরপর রাত তিনটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েক ভুক্তভোগীকে ওই বাসা থেকে নামিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেট কারে তোলেন। পরে তাকে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে গাড়িতে আটকে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চা খেতে গাড়ি থেকে নামলে ভুক্তভোগী পুলিশের গাড়ি দেখে লাফ দিয়ে নেমে শেরেবাংলা নগর থানা–পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। এ সময় অভিযুক্ত জিয়াউল ইসলামের চালিত প্রাইভেট কারটিও জব্দ করা হয়। পরে ২৫ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন আল্লাহকরিম মসজিদের সামনে থেকে আনসার সদস্য সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com