
বাংলার কাগজ ডেস্ক: ‘দেশের সব সচিব যদি ঠিক সময়ে অফিসে আসেন, তবেই আমিও নিয়ম মেনে সময়মতো অফিসে আসব’—এমন মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) লিপী ঘরামী।
নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানিসহ তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৯ সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লিপী ঘরামী নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। অফিসে এলেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আসেন এবং আগেভাগে চলে যান। এ ছাড়া দাপ্তরিক গোপনীয় তথ্য বাইরে প্রকাশ, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদের ফি বাবদ আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সেবা নিতে এসে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সকাল ৯টায় পরিষদে এসেও অনেক সময় সকাল ১০টা, ১১টা, এমনকি দুপুর গড়িয়ে গেলেও সচিবের দেখা পাওয়া যায় না। কখন অফিসে আসবেন, তা ফোনে জানতে চাইলে সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিপী ঘরামী বলেন, তিনি দূর-দূরান্ত থেকে গোপালগঞ্জ উপজেলা হয়ে কর্মস্থলে আসেন। এ কারণে তার কিছুটা দেরি হতে পারে। প্রতিদিন সকাল ৯টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টা বা ১১টায় অফিসে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সব সচিব কি ঠিক সময়ে অফিসে যান? দেশের সব সচিব যদি ঠিক সময়ে যান, তবে আমিও ঠিক সময়ে আসব।’
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, ‘সচিব আমাদের কোনো কথাই শোনেন না। তিনি তার ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন এবং কাজ করেন। তার এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সরকারি সেবায় চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রেজওয়ানা কবির বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।