1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন দীপু মনি, কারাফটকের সামনে মেয়ে ও আইনজীবী নিহতদের পাঁচজন বাংলাদেশি, চারজন একই পরিবারের সদস্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল

‘জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন’ গঠন ও কমিটি ঘোষনা

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২০

ঢাকা : দেশের উন্নয়নে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। কৃষক আজ ফসলের ন্যায্য দাম পায় না, শ্রমিক তার ঘামের ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে কৃষক-আর শ্রমিক শ্রেণী। দেশের সংখ্যাগরিষ্ট কৃষক ও শ্রমিক শ্রেনীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পথ দেখিয়ে গেছেন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। তাদের প্রদর্শিত পথে কৃষক-শ্রমিক শ্রেনীকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার আদায়ের লক্ষে ‘জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন’ নামে সংগঠন গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারী) নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘দেশের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেনীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয়’-শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন ও সংগঠন পরিচালনার লক্ষে একটি সমন্বয় কমিটি ঘোষনা করা হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিশিষ্ট রাজনীতিক ও কলাম লেখক গোলাম মোস্তফা ভুইয়াকে আহ্বায়ক, রাজনীতিক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও শ্রমিক সংগঠক মো. মহসিন ভুইয়াকে সমন্বয়কারী করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পলিটব্যুরো ও ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, আমাদের দেশে ৮০ শতাংশ কৃষকের বাস হলেও কৃষকের অধিকার আজো আমাদের সমাজে অধরাই থেকে গেছে। আজো সারের জন্য, সেচপাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়ার জন্য বিদ্যুতের দাবিতে কৃষককে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়। যে কৃষক শুধু নিজের জন্য চাষাবাদ করে না, ঝড়, বৃষ্টি, সাইকোন, বন্যা, খরা মোকাবেলা করে দেশের জন্য সম্পদ তৈরিতে জমিতে ফসল বুনে সেই কৃষক যখন দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয় তখন আমাদের মনে থাকে না, দাঁড়াতে পারি না আমরা সেই কৃষকের পাশে। আমরা সেই কৃষকের পরিশ্রমের মূল্য দিতে জানি না।

সভায় আরো বলা হয় যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহন ও অবদানের কথা কারো অজানা নেই। শিল্পকারখানা অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের কারণে একে একে রুগ্ন হয়ে পড়েছে, অলাভজনক হয়ে গেছে এবং অগোচর বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব শিল্পকারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, সেগুলোও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শিল্পের এই ভগ্ন ও দৈন্যদশার কারণে কত শ্রমিক যে বেকার হয়েছে, দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা ও অনিশ্চয়তার শিকার হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। স্বাধীনতার পর যে শিল্পটির ব্যাপক বিস্তার ও প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার নাম গার্মেন্টস শিল্প। এই শিল্পে লাখ লাখ শ্রমিকের বিশেষ করে নারীশ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে শ্রমিকদের বেতনভাতা, সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ যথোচিত নয়।

সভায় আরো অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এ দেশের কৃষক আর শ্রমিক সমাজের আয়, ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার অবস্থা। তাদের সমস্যা সমাধান না হলে ব্যাহত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।

সভায় আরো বলা হয় যে, কৃষক-শ্রমিকেরা পদে পদে অধিকারহারা, লাঞ্ছনা আর নির্যাতনের শিকার। কৃষক ও শ্রমিকসমাজ মুক্তি পেতে পারে এমন একটি কল্যাণধর্মী সমাজব্যবস্থা থেকে যে সমাজ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রদান করে এবং শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়। যে সমাজ কৃষক ও শ্রমিকদের মানবসম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান করে। সেই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষে ‘জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন’ নামক এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com