1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নালিতাবাড়ীতে এমপির ১৫০০ গাছের চারা বিতরণ ঝিনাইগাতীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, বেকার হাজারো শ্রমিক মিয়ানমারে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশির মৃত্যু সবাইকে নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঝাঁপ দিতে হবে: সিইসি বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে : আইনমন্ত্রী বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি : নাহিদ ইসলাম নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন শেরপুরে রাইস কুকারে রান্নার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডব: যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দ্বীপ সেন্টমার্টিন

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০২৩

কক্সবাজার: জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিন ঢুকতেই মনে হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দ্বীপ। ডানে-বাঁয়ে তছনছ বসতবাড়ি, হোটেল-মোটেল। আর সামনে রাস্তার উপর গাছের ডালপালা। ঘূর্ণিঝড়ে বসতবাড়ি হারা মানুষগুলোর মুখে হতাশার ছাপ, কারো কারো গালে আবার কারো মাথায় হাত। দেখে যে কারো মনে হতে পারে এ যেন একরাশ হতাশার নারকেল জিঞ্জিরা (সেন্টমার্টিনের অপর নাম)।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের নজরুল পাড়ার পঁচাত্তর বয়সী জাফর আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি আমাদের নিঃস্ব করে চলে গেলো। উড়িয়ে নিয়েছে ঘরের ছাউনি। গাছপালাগুলোও ভেঙে গেলো। শুধু খালি খালি লাগছে ভিটেবাড়ি। গাছ পড়ে ছিঁড়েছে সৌরবিদ্যুতের তার। ঝড়ের দিন থেকে আলো নেই রাস্তাঘাটে। সবকিছু যেন অন্ধকার। আসবাবপত্র পড়ে রয়েছে এখনো খোলা আকাশের নিচে। সামর্থ্য নেই নতুন ঘর নির্মাণ করবো কী দিয়ে? গরীবের এই হতাশার অবসান হবে কবে?’

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, কোণাপাড়া, গলাচিপা, মাঝেরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া দেখা যায় রাস্তার বেহাল দশা। বিদ্যুতের আলো নেই। কয়েকটি বসতবাড়িতে মিটিমিটি কেরোসিনের হারিকেন জ্বলছে। পুরোপাড়া ঝিম নীরব। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি হাসপাতালের উত্তরপূর্ব পাশে কয়েকটি দোকানে টর্চ লাইটের আলো দেখা গেলো। সেখানে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে পাওয়া গেলো।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আয়ুব ওরফে তৈয়ব বলেন, ‘১৯৯৭ সাল থেকে এই দ্বীপে বাস করি। এর আগের ৯১, ৯৪ এর ঘূর্ণিঝড় দেখিনি এ দ্বীপে। কিন্তু এরপরের ঘূর্ণিঝড়গুলোতে দেখেছি দ্বীপের রাত-দিনের চিত্র। দিনে কিছুটা ভালো লাগলেও রাতে শুরু হয় নীরব কান্না। ঘুটঘুটে অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড দ্বীপে মন জ্বলে দ্বীপের বাইরের থাকা আত্মীয়-স্বজনের জন্য। আল্লাহ্ না করুক যদি এখানে কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হয়। তাদের মুখটাও দেখে মরতে পারবো না। আতঙ্ক আর হতাশা কাজ করে।’

ভ্যানচালক শাহ আলম বলেন, ‘মানুষের যাতায়াতের কথা ভেবে রাতে ভ্যান বের করি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে রাস্তাঘাটের যে অবস্থা হয়ে গেছে। দুইদিন পর পর চাকা মেরামত করতে হয়। সড়কে বিদ্যুতের লাইন নেই। নামে মাত্র একটা টর্চ লাইট স্টিয়ারিংয়ে লাগিয়ে ভ্যান চালাই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভ্যান চালাতে ভয় করলেও এটি দুর্গত মানুষের সেবা বলে মনকে বুঝাই।’

সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখা দ্বীপে যে তাণ্ডব চালিয়ে গেল। তাতে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। অনেক সুন্দর সুন্দর গাছপালা ভেঙে গেছে। এখনো বিভিন্ন গ্রামের ছোট-বড় রাস্তায় গাছের ডালপালা পড়ে আছে। এগুলো আস্তে আস্তে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব সৌরবিদ্যুতের লাইন ঠিক করে দ্বীপটিকে আলোকিত করা হবে। এতে করে রাতের আঁধারে মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে। ভয়-ভীতি থাকবে না।’

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দৃশ্যমান থাকায় দ্বীপটি পর্যটকদের প্রথম পছন্দের। এখানে পর্যটকরা বেড়াতে এলে রাতের সৌন্দর্যও উপভোগ করে যান। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সে সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়েছে নারিকেল জিঞ্জিরার। বিধ্বস্ত হওয়ার দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিন বর্গমাইল দ্বীপের ১২ হাজার মানুষ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com