1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন দীপু মনি ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটাভুটিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা অটোরিকশা নিতেই চালককে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ নালিতাবাড়ীতে অঙ্গীকার ফাউন্ডেশন’র স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ফল গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই, মূলহোতা গ্রেপ্তার বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে

কমেনি সয়াবিনের দাম, দিনে ৭ কোটি টাকা লুট করছে কোম্পানিগুলো

  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক : প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম কমানো হয়েছিল সয়াবিন তেলের। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রিফাইনারি মিল মালিকরা নিজেরাই ঘোষণা দিয়েছিলেন নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে ১ মার্চ থেকে। অথচ দুই দিন পার হয়ে গেলেও হ্রাসকৃত এই মূল্য এখনও কার্যকর করেনি মিল মালিকরা। দাম কমানোর পরও বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় দিনে ৭ কোটি টাকারও বেশি বাড়তি মুনাফার নামে লুটে নিচ্ছে রিফাইনারি মিলগুলো। এমন তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের তদন্তে।

ঘোষণা দেওয়ার পরও মিল মালিকরা ১ মার্চ থেকে কেন সয়াবিন তেলের দাম কমায়নি-বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গতকাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকার সয়াবিন তেল রিফাইনারি মালিকদের মিলে অভিযান চালানো হয়। তাদের অভিযানে উঠে আসে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য। লিটারে ১০ টাকা কমানো মূল্যের লেবেলসংবলিত সয়াবিন তেলের বোতল ১ মার্চের আগেই মিলগুলোতে প্রস্তুত করার কথা এবং দুই-তিন দিন আগেই নতুন মূল্যসংবলিত তেল খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু গতকাল অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, ২ মার্চ পর্যন্তও মিলগুলোতে হ্রাসকৃত মূল্যের লেবেল দিয়ে সয়াবিনের বোতল প্রস্তুত করা হয়নি। ভোক্তা অধিদফতরের অভিযানের পর গতকাল দুয়েকটি মিলে নতুন মূল্যের লেবেল দিয়ে সয়াবিন বোতল প্রস্তুত শুরু করে।

এমন তথ্য জানিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, মিল মালিকরা যখন দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেন, তখন পরদিনই বাড়তি মূল্যের লেবেলসংবলিত সয়াবিন তেল তারা বাজারে সরবরাহ করে দেয়। আর যখন দাম কমানো হয়, তখন ১০ দিন পার হয়ে গেলেও হ্রাসকৃত মূল্যের সয়াবিন তেল তারা বাজারে ছাড়ে না। এভাবে দাম কমানোর পরও মিল মালিকরা বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসায় আমরা শনিবার (গতকাল) রিফাইনারি মিল পর্যায়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছি। অভিযানে আমরা মিলগুলোতে অনেক অসংগতি দেখতে পেয়েছি।

তিনি জানান, প্রতিদিন দেশে ৬ হাজার টন ভোজ্য তেল দরকার হয়। কেজির হিসাব করলে এক টনে সয়াবিন হবে ১ হাজার ৮৫ কেজি। এতে করে ৬ হাজার টনের হিসাবে প্রতিদিন ৭০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫০ কেজি  ভোজ্য তেল দরকার পড়ে। এতে করে প্রতিদিন যদি মিলগুলো কেজিতে ১০ টাকা বাড়তি মুনাফা করে তা হলে দিনে তারা ৭ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লোপাট করছে বাজার থেকে। আমরা এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি, আগামীকাল (আজ) রোববারই আমরা এই প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেব। তারপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই মিল মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়-সেটি বিবেচনা করবে। তবে তারা যে কাজটি করেছে, সেটি নিঃসন্দেহে নীতিহীন কাজ।অন্যদিকে বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে রোববার (আজ) থেকে ১৬৩ টাকা লিটার দরে ভোজ্য তেল কিনতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাসরুট উইমেন এন্টারপ্রেনার্স বাংলাদেশ (এজিউব্লিউইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১ মার্চ থেকে মিলগেটে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৬৩ টাকায় ভোজ্য তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে দুয়েক দিন সময় লাগতে পারে। গতকাল থেকে এ বিষয়ে তদারকি শুরু হয়েছে। শনিবারও প্রতিটি তেলের মিলে আমাদের টিম গেছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় সয়াবিন তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। তাতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমিয়ে ১৬৩ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিনই জানানো হয়েছিল, ১ মার্চ থেকে সয়াবিন তেলের নতুন এই দর কার্যকর হবে। তবে খুচরা বাজারে এখনও নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু হয়নি।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বাজারে দেখা মিলছে না নতুন দামের সয়াবিন তেল। মার্চের শুরু থেকেই সয়াবিন তেলের দাম কমানোর কথা থাকলেও এখনও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামেই। ফলে সয়াবিন তেলের দাম কমানো হলেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কম দামের তেল এখনও বাজারে সরবরাহ করেনি কোম্পানিগুলো।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাসাবো বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখনও আগের দামে তেল বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি লিটারপ্রতি ১০ টাকা কমে ১৬৩ টাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি খোলা তেল ১৪৯ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও সেখানেও নেই দাম কমার প্রভাব।

রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজারের মুন্না স্টোরের মালিক মোহম্মদ মুন্না বলেন, শুনেছি কোম্পানি তেলের দাম কমাবে, কিন্তু এখনও আমরা হাতে পাইনি। কোম্পানির প্রতিনিধি বলেছেন, দুই-তিন দিন সময় লাগবে নতুন দামে তেল বাজারে আসতে।

আরেক বিক্রেতা বলেন, নতুন তেল পাইনি। তবে আমি লিটারে ৫ টাকা দাম কমিয়ে বিক্রি করছি। নতুন তেল এলে আরও ৫ টাকা কমিয়ে বিক্রি করা যাবে।

বাজারের এক ক্রেতা বলেন, যখন কোনো পণ্যের দাম বাড়ে কোম্পানিগুলো সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়ে দেয়। দোকানদাররা সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করে ফেলেন। কিন্তু দাম কমানোর সময় এমনভাব করে যেন তারা বিষয়টি জানেই না। বাজারে এখনও কোম্পানি ভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৭০-১৭৫ টাকা দামেই বিক্রি হচ্ছে। খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com