1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে দুই দেশ কাজ করছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতীয় মৎস্য পক্ষ সফল করতে শেরপুরে প্রস্তুতি সভা নালিতাবাড়ীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আলোচনা ও দোয়া অনলাইনে জুয়া ও অপকর্মে জড়িত ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা পিতার নালিতাবাড়ী শহরে বাসায় হামলা দিয়ে দুই সহোদরকে কুপিয়ে জখম চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরকে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই: তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও আশ্রয়ণের ১৫১ ঘরে থাকেন ৩০ জন

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

বাংলার কাগজ ডেস্ক : ছোট দুটি খড়ের ঘরে থাকেন দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রী, আর বারান্দায় থাকেন বয়োবৃদ্ধ বাবা-মা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের এসো কুমার রায়ের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। অথচ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেয়েছিলেন তার বড় ছেলে সুকুমার রায়। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেই ঘরে তিনি থেকেছেন মাত্র চার দিন।

ঘর ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে সুকুমার রায় বলেন, আমাকে যে জায়গায় ঘর দেওয়া হয়েছে তা মহাশ্মশানের কাছে। আশেপাশে কোনো বাজার নেই, আর সবথেকে বড় সমস্যা হলো কোনো যাতায়াতের রাস্তা নেই। আমি অটো চালাই, বাড়ি ফিরি রাতে। জঙ্গল ঘেরা পথ পার হয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। আমার স্ত্রী একা থাকতে ভয় পায়, তাই বাধ্য হয়ে বাবার কাছেই কষ্ট করে থাকি।

২০২০-২১ অর্থবছরে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’-এর আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৩ নম্বর আকচা ইউনিয়নের টাঙ্গন নদীর পাশে কান্দরপাড়ায় ১৫১টি ঘর নির্মাণ করা হয়। দুই শতক জমিসহ দুটি কক্ষ, রান্নাঘর, শৌচাগার এবং বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধাসংবলিত এসব ঘর নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই সুবিধাভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে নিয়মিত বসবাস করছেন মাত্র ৩০টি পরিবার। বাকি ঘরগুলো তালাবদ্ধ পড়ে আছে।

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাশ্মশানের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায়, কর্মসংস্থানের অভাব এবং পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সুফলভোগীরা বাধ্য হয়ে পুরোনো ঠিকানায় ফিরে গেছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট

আশ্রয়ণের ঘরে না থেকে নদীর ধারে ছোট একটি ঘর করে থাকেন কমলা পাল ও তার স্ত্রী ফুলো পাল। কমলা পাল বলেন, ‘হামার একটা সন্তান, মেয়ে। দুই বছর আগে বিহা দিছি। বিহার সময় ভিটাবাড়ি বিক্রি করিবা হইছে। হামার হিন্দুর ঘরত বিহার সময় জামাইক অনেক টাকা দিবা হয়। পরে চেয়ারম্যান আর মেম্বারক ধরে একটা সরকারি ঘর নিছি। যায় দেখি শ্মশানবাড়ির ঘর। অনেকলা ঘর কিন্তু লোকজন নাই। হামরা কুমার মানুষ, মাটির হাঁড়িপাতিল বানাই। ওইঠে হামার কোনো কাজ হয় না। আশেপাশে কোনো গ্রাম নাই, সব দূরত। আর রাস্তা নাই। সেইতাতে হামরা ঘরটা তালা মারে হামার গ্রামত চলে আসিছি। নদীর পাড়ত খাসজমি আছে, সেখানত বাড়ি করে কুমারি করে চলছে সংসার।’

স্ত্রী ফুলো পাল বলেন, ‘দিনের বেলাও ওই জায়গাখানত লোকজন যায় না। রাইতে একলা থাকিবা হয়, ভয় লাগে। হামরা কাজ করে খাই, ওইঠে কোনো কাজ নাই। তাই আগের জায়গাত চলে আসিছি। হামার পাড়াত সবার বাড়িত কাজ করছু, সবাই চাল-ডাল দেয়।’

একই গ্রামের নিমাই পাল করে বলেন, ‘হামার বসতবাড়ি নাই। হামরা চেয়ারম্যানের কাছত একটা বাড়ি চাহিছিনু, কিন্তু হামাক দেয়নি। যাক দিছে ওমরা কেহ থাকে না। আর হামরা কষ্ট করে থাকেছি মানুষের জমিত। কোনদিন খেতায় দিবে তার ঠিক নাই। পরিবার নিয়া রাস্তাত থাকিবা হুবে।’

মুজিববর্ষের ঘর পেয়েছেন মডেল রায়ও। তিনি জানান, ‘গুচ্ছগ্রামে ৩ মাস ছিলাম। দিনমজুরের কাজ করি, সেখানে আশেপাশে কোনো কাজ পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে পুরোনো জায়গায় চলে আসছি। ঘরটিতে তালা মারা আছে, ভবিষ্যতে সুযোগ হলে যাব।’

অন্যদিকে অন্যের জমিতে আশ্রিত সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বহুদিন ধরে নিজের একটা জমি কিনে ঘর করার স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু জমির যে দাম, দিনমজুরের কাজ করে কবে কিনতে পারব জানি না। মুজিববর্ষে যখন ঘর দেওয়া হলো, চেয়ারম্যানকে কতবার বললাম! তিনি খালি দেবেন দেবেন করে দিলেন না। যদি একটা ঘর আমি পেতাম, তবে মাথা গোঁজার নিজস্ব একটা ঠাঁই হতো।’

কান্দরপাড়া গুচ্ছগ্রামে চার বছর ধরে বাস করছেন কফিলা আক্তার নামে এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘প্রথম যখন ১৫১টি ঘর উদ্বোধন করা হয়, তখন ডিসি স্যার অনেক মানুষকে উঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরে আস্তে আস্তে লোক কমতে কমতে এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার আছে। ঘরের মালিকেরা মাঝে মাঝে এসে দেখে যায়। আমার সারিতে ৩৫টি ঘরের মধ্যে আমি একাই থাকি, রাতে খুব ভয় লাগে। সবাই বাস করলে আর ভয় লাগত না, আপদে-বিপদে সবাই সবাইকে সাহায্য করতে পারত।’

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বসির আহম্মেদ বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের আলাদা ঘর, আমি আর আমার বউ একটি ঘরে থাকি। দুই ছেলে বারান্দায় ঘুমায়। আমাদের আশেপাশে কেউ থাকে না। তারা যদি না-ই থাকে, তবে ঘরগুলো কেন নিল? আমাকে আরও দুটি ঘর দিলে ছেলেরা শান্তিতে থাকতে পারত। সরকার এত টাকা খরচ করল, কিন্তু মানুষগুলোর অবহেলার কারণে সুবিধা মিলছে না।’

আকচা ইউনিয়নের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী বলেন, ভূমিহীনদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখল করে যারা সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সেখানে থাকার সুযোগ করে দিয়ে এই মহতী উদ্যোগটি সফল করা প্রয়োজন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট

৩ নম্বর আকচা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রায় বলেন, ১৫১টি ঘরের মধ্যে কেবল ৩০ জন মানুষ বাস করছেন। যারা থাকেন না, ইতোমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘর উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম জানান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে, ফেলে রেখে দখল বজায় রাখার জন্য নয়। কেউ না থাকলে তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন তালিকার মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, গৃহহীনদের পুনর্বাসনে এটি অত্যন্ত মহতী একটি উদ্যোগ ছিল। আকচা ইউনিয়নের কান্দরপাড়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের সমস্যা রয়েছে এবং নদীর ওপর একটি ব্রিজ প্রয়োজন। আমরা দ্রুত রাস্তা ও ব্রিজের ব্যবস্থা করে দেব। এরপরও যদি তারা ঘরে না ফেরেন, তবে নতুন তালিকা করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।

সূত্র: এশিয়া পোস্ট

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com