
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, (ঝিনাইগাতী) শেরপুর: শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় ঝরনা, খাল ও নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় হাজারো নিম্নআয়ের শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। শিল্পকারখানাবিহীন এ উপজেলায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন।
জানা গেছে, বিগত সময়ে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদী থেকে সরকারি ইজারার মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক। এ কাজের মাধ্যমে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে বালু মহালগুলোতে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে মহারশি নদীর বালু মহাল সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় নানা জটিলতার কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পাথর উত্তোলনও বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, বৈধভাবে সরকারি রাজস্ব দিয়ে বালু উত্তোলন করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন।
তাদের অভিযোগ, কাজের সুযোগ না থাকায় কিছু শ্রমিক পাহাড় থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে প্রশাসনের অভিযান ও জেল-জরিমানার কারণে অনেক শ্রমিক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলেও তারা জানান।
বালু ব্যবসায়ীরা বলেন, নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হলে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে। এ কাজের সঙ্গে ট্রাক মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের আয়ও জড়িত।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান বলেন, সরকারি বিধি মেনে পাথর ও বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। দ্রুত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
পরিবেশবিদরা বলেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হলে সরকার রাজস্ব পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বেকারত্বও কিছুটা কমবে। এলাকাবাসী বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।