1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
১১২ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হতে পারে দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান শ্রীবরদীতে ১৪ পূজামণ্ডপে চালের ডিও বিতরণ ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি’, সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের যন্তর মন্তর বিক্ষোভ দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, সড়ক অবরোধ পরীক্ষার্থীদের বন্যহাতিকে পর্যটন হিসেবে কাজে লাগানোর কথা জানালেন পরিবেশ মন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণও করেন সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ পরীমণির চন্দ্র বিলাস

প্রতিবন্ধি মুসলিমার শিকলবন্দি জীবন!

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ষোল বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধি কিশোরী মুসলিমা। দিনমজুর বাবা কাশেম আলী মারা গেছেন প্রায় এগারো বছর আগে। মা মনোয়ারা বেগম কোমড়ে ডোলা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে ভোজ্যতেল, বুট-বাদাম, সুঁই-সুতা এসব বিক্রি করে দিন কাটান। দিনমজুর তিন ভাই বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। ভিটেমাটি বলতে পাঁচ শতক জমি আর ছোট একটি টিনের চালা। এ চালা ঘরই মুসলিমার জগত। দিনরাত প্রায় চব্বিশ ঘণ্টাই দুই হাতে শিকল ও আর দুই পায়ে রশি লাগিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখা হয় তাকে। মা সারাদিন আশপাশের গ্রাম ঘুরে রোজগার শেষে বাড়ি ফিরেন। ততক্ষণে মুসলিমা খড় বিছানো বিছানায় প্রকৃতির কাজ সেড়ে ঘরময় দূর্গন্ধ করে তোলে। শিকল আর রশি খোলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়ে আবারও তাকে শিকলবন্দি করা হয়। একটু ছাড়া পেলেই যেখানে সেখানে চলে যায়। নিজের শরীর নিজে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে। এ কারণেই মুসলিমার নিরাপত্তার কথা ভেবে শিকল আর রশিতে বাঁধা পড়ে থাকে তার শৈশব-কৈশর।
শৈশবে প্রতিবন্ধি হয়ে যাওয়া মুসলিমাদের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের কয়ারপাড় গ্রামে।
মুসলিমার মা মনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় দেড় বছর বয়সে মুসলিমা হঠাৎ করেই মানসিক প্রতিবন্ধি হয়ে পড়ে। এরপর কবিরাজী চিকিৎসা করিয়ে কোন ফল পাওয়া যায়নি। সেই থেকে এখন ষোল বছরে মুসলিমা। প্রতিবন্ধি কন্যাকে নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। সারাদিন বেঁধে রেখে গ্রাম ঘুরে রোজগার করেন। রাতের বেলায় কন্যার চেচামেচিতে ঘুম আসে না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে হয়।
প্রতিবেশি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই শিকল আর রশি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয় মুসলিমাকে। একটু ছাড়া পেলেই বিপত্তি ঘটায়। এভাবে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে থাকতে মুসলিমা আরও অস্বাভাবিক হয়ে পড়ছে।
ভাই মুসলিম উদ্দিন জানান, আমরা অনেক কষ্টে নিজেদের সংসার চাই। ফলে বোনের চিকিৎসা করতে পারি না। শুধুমাত্র মায়ের বিধবা ভাতা, বোনের প্রতিবন্ধি ভাতা আর ফেরি করা রোজগার দিয়ে তো সব হয় না। সরকার যদি আমাদের পাশে দাড়ায় তবে হয়ত বোনটি নিয়ে মা একটু স্বাচ্ছন্দে চলতে পারবেন।
এদিকে খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান মুসলিমাদের বাড়ি যান। কথা বলেন স্বজনদের সাথে। এসময় তিনি পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য ব্যাটারিচালিত ভ্যান দেওয়ার কথা বলেন এবং নগদ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, মুসলিমাদের স্বচ্ছলতার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক হাতালে নিয়ে চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলব। এছাড়াও সামনের বরাদ্দ থেকে একটি সরকারী ঘর তাদের দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com