
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে পৌঁছেছে। এটি দেশটির স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। দেশটির মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলে জানিয়েছে, একই গন্তব্যের দিকে যাওয়া দুটি ট্রেন একই লাইনে চলছিল। এরমধ্যে একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে পেছন থেকে এসে অত্যন্ত জোরে আঘাত করে। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইন থেকে পড়ে যায়।
স্পেনে এর আগে এমন বড় রেল দুর্ঘটনা হয়েছিল ২০১৩ সালে। সে বছর একটি ট্রেন রেললাইনের বাকে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনে গিয়ে পড়ে। তখন উল্টো দিকে থেকে আসা আরেকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। ওই দুর্ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এখন দেশটি আরেকটি বড় দুর্ঘটনা দেখল।
দুর্ঘটনার শিকার হওয়া দুটি ট্রেনে ৫৪৪ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন। দুর্ঘটনাটি হয় মোরা এবং ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে। দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াতে যাচ্ছিল।
জেসুস জেরোনিমো নামে ৫৪ বছর বয়সী এক যাত্রী বলেছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীরা ভেতর থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান।
তিনি বলেছেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে আমরা বাইরে বের হই এবং দেখতে পাই আমাদের ট্রেন একপাশে কাত হয়ে গেছে। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন। অনেকে ভয়ে কাঁপছিলেন।”
ফুটেজে দেখা গেছে, একটি লাইনচ্যুত ট্রেনের অন্তত একটি বগি রেললাইনের একটি উঁচু অংশে পড়ে আছে এবং লাইনের নিচের বাঁধ জুড়ে মোচড়ানো ধাতু, ভাঙা প্যানেল ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা- এডিআইএফ জানিয়েছে, স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা রেনফে এবং বেসরকারি উচ্চগতির রেল অপারেটর ইরিও-এর দুটি ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষে ঘটনা।
সংস্থাটি আরও বলছে, সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলে একাধিক দমকল কর্মী, তিনটি হেলিকপ্টার এবং বিশেষায়িত মোবাইল মেডিকেল ইউনিটসহ উদ্ধারকারী দল তৎপর রয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘টোলেডোর ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। আমি পরিবহনমন্ত্রী এবং কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। জরুরি পরিষেবাগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশটির আদামুজ এলাকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। ওই ঘটনার নয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দুর্ঘটনা ঘটল। জানুয়ারির ওই দুর্ঘটনাটি ছিল স্পেনের দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কে ঘটা প্রথম বড় ধরনের সংঘর্ষ।