
বাংলার কাগজ ডেস্ক : গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির শা’স্তি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানের পদাবনমন ঘটেছে। আ’লো’চি’ত সেই গবেষণা প্রবন্ধে তার সহকর্মী অ’প’রা’ধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মা’রজানও শা’স্তি পাচ্ছেন। তাকে শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকে’টের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
তবে এ শা’স্তির সিদ্ধান্ত না মেনে হা’ই’কো’র্টে রিট করবেন বলে জানিয়েছেন সামিয়া রহমান। এ বিষয়ে সামিয়া রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমি রিট করবো। ট্রাইব্যুনাল ত’দ’ন্ত করে এ ধরনের কোনো প্রমাণ পায়নি। ট্রাইব্যুনাল বলেছিল যে ,আমি এটার সঙ্গে জ’ড়ি’ত না। আমি সব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম।
এদিকে, শা’স্তি পাওয়া সামিয়া রহমানের বাবা কাজী মাহমুদুর রহমানের দাবি, তার মে’য়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভা’রপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিকের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। এ ঘটনার পর সামিয়া রহমান ভে’ঙে পড়েছেন বলে দাবি তার। বিষয়টি নিয়ে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) কাজী মাহমুদুর রহমান ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিচে সেটি হুবহু তুলে ধ’রা হলো-
“ভিসি আক্তারুজ্জামান ও ডিন সাদেকা হালিমের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার সামিয়া রহমান এখন মৃ’ত্যু শয্যায়। সবার অবগতির জন্যে জানাচ্ছি যে, আমা’র কন্যা সামিয়া রহমানকে তার নামে মুদ্রিত নিবন্ধে ফুকোর বক্তব্যের কিছু অংশ প্লেগারিজমের দায়ে অ’ভিযু’ক্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন সাদেকা হালিমের সিন্ডিকেট চক্রটি তার পদাবনতি ঘটিয়েছে। অথচ বিতর্কিত এই নিবন্ধটি সামিয়া লেখেনি, সে তাতে স্বাক্ষর করেনি এবং নিজেও জমা দেয়নি। সামিয়ার নামে এই কাজটি করেছিল ষড়যন্ত্রীদের পক্ষে ক্রিমিনোলজির সহকারী অধ্যাপক মা’রজান। বিষয়টি সামিয়া রহমান পরে জানার পর সে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং নিবন্ধটি যে সে লেখেনি সে বিষয়ে তার সকল প্রমাণ পত্র পেশ করে। কিন্তু ভিসি আক্তারুজ্জামান ও ডিন সাদেকা হালিম তার সকল প্রমাণ পত্র উপেক্ষা করে। কারণ পূর্ব থেকেই তারা সামিয়ার প্রতি বিরূপ ও হিং’সা’পরায়ণ ছিল। তারা ক্ষমতায় আসার পর সামিয়াকে শা’স্তি দিতে মা’রজানকে দাবার ঘুটি হিসাবে ব্যবহার করে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। গত তিন বছর যাবত ভিসি আক্তারুজ্জামান ও ডিন সাদেকা হালিম বিভিন্ন সময়ে সামিয়াকে চূড়ান্ত ভাবে অ’পমানিত ও বিপর্যস্ত করেছে। ট্রাইবুনালের পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য অধ্যাপকদের মতামত উপেক্ষা করে তারা বিচারের নামে প্রহসন করে সামিয়াকে পদাবনতি করে সহকারী অধ্যাপক করেছে এবং তাদের ষড়যন্ত্রের দাবার ঘুটি মা’রজানকে পুরস্কার স্বরূপ পূর্বেই স্কলারশিপ দিয়ে আ’মেরিকায় পাঠিয়ে দিয়েছে ।
ভিসি আক্তারুজ্জামান ও ডিন সাদেকা হালিমের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার নির্যাতিত সামিয়া রহমান কয়েকবার আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের ও তার স্বামী ও সন্তানদের কড়া পাহারায় তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কিন্তু এখন আমাদের পক্ষেও তাকে এভাবে বাঁচিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।
সামিয়া বলতে গেলে এখন মৃ’ত্যু শয্যায়। আশংকা করছি শীঘ্রই আমাদের অ’জ্ঞা’তে সে হয়তো মৃ’ত্যুকেই বরন করে নেবে। ডাক্তার বলেছেন মানসিক বিপর্যয়ে তার শা’রীরিক অবস্থা গভীর সংকটে। লাংস অ’ত্যন্ত দুর্বল , অক্সিজেন লেভেল এখন একাত্তরে।বেঁচে থাকার জন্যে নুন্যতম প্রয়োজন নব্বই। আমাদের সতর্কতা সত্ত্বেও অনকাংখিত তার এই দুঃখজনক মৃ’ত্যু যদি ঘটে তার জন্যে একমাত্র দায়ী ভিসি আক্তারুজ্জামান ও ডিন সাদেকা হালিম। তার মৃ’ত্যু ঘটলে আম’রা কারো দোয়া বা সহানুভূতি চাই না। কারণ আপনাদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে সামিয়ার চরিত্র হননে বিপুল উৎসাহ, আনন্দ পেয়েছেন। বাঙালি জাতির চরিত্রে এটাই স্বাভাবিক। তবে সামিয়ার অকাল মৃ’ত্যু ঘটলে এর জন্যে দায়ী ভিসি আক্তারুজ্জামান ও তার ডিন সাদেকা হালিমকে আম’রা রেহাই দেব না।”