1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশা নিতেই চালককে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ নালিতাবাড়ীতে অঙ্গীকার ফাউন্ডেশন’র স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ফল গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই, মূলহোতা গ্রেপ্তার বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ

প্রভাবশালীদের হাতে ব্যাংকের ৭৬ হাজার কোটি টাকা আটকা!

  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক : কিছু প্রভাবশালী গ্রাহক আদালত থেকে স্থগিতাদেশ বা স্টে অর্ডার নিয়ে ব্যাংকের ৭৬ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। ব্যাংকাররা বলছেন, এসব ঋণের বেশির ভাগই খেলাপিযোগ্য। কিন্তু আদালতের স্টে অর্ডার নেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে আছে ঋণগুলো, যা ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে।

এই মুহূর্তে মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের সঙ্গে স্টে অর্ডারের অর্থ যোগ করলে দেশের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ঋণ মন্দ হয়ে পড়বে, যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। বছরের পর বছর মামলা চলছে। অভিযুক্তদের কেউ জেলে আছেন, অনেকে জামিন পেয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থঋণ আদালতে খেলাপি ঋণের মামলার স্তূপ বেড়েই চলেছে। গত মার্চ শেষে দেশের ৬০টি ব্যাংকের অর্থঋণ আদালতে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ সাত হাজার ৫৯৩টি। এসব মামলায় আটকে আছে প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা।

গত বছরের ডিসেম্বরে মামলার সংখ্যা ছিল দুই লাখ ছয় হাজার ৫৮৪টি, এর বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। ফলে চলতি বছরের তিন মাসে মামলার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৯টি। আর জড়িত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মূলত আগের মামলা নিষ্পত্তিতে গতি কমে যাওয়া ও নতুন মামলা বেড়ে যাওয়ায় মামলার স্তূপ কমছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বের করা ঋণ স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বারবার সুবিধা ও ছাড় দেওয়ার পরও এসব ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না খেলাপিরা। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এসব ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা হলেও নিষ্পত্তি হচ্ছে খুবই কম।

ব্যাংকাররা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা কম হওয়া ও বিচারকের অভাব এবং আইনি মতামতের জন্য ব্যাংকের আইনজীবীকে পর্যাপ্ত সময় ও সহায়ক জামানতের পর্যাপ্ত দলিলাদি সরবরাহ করতে না পারায় অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেন, ‘অর্থঋণ আদালত খুবই কার্যকর একটি আদালত। কিন্তু এটা অকার্যকর হয়ে আছে। কারণ এখানে পর্যাপ্ত লোকবল ও আদালতের অভাব রয়েছে। তাই দিনের পর দিন মামলার স্তূপ বেড়েই চলেছে। তা ছাড়া একটি বড় অঙ্ক প্রভাবশালীরা স্টে অর্ডার বা রিট করার মাধ্যমে ঝুলিয়ে রেখেছেন, যেটা ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বহুদিন থেকে বলে আসছি যদি কোনো গ্রাহক উচ্চ আদালতে রিট করেন, তাহলে যেন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (২০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ) জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। তাই দিনের পর দিন রিটের সংখ্যা ও আটকে থাকা টাকার পরিমাণ বাড়ছে। ব্যাংক খাতের এই ক্রান্তিকালে তারা যদি এই টাকাগুলো ফেরত পেত তাহলে ব্যাংকের সমস্যা আর থাকত না। অটোমেটিক্যালি অর্থনীতি উপকৃত হতো। তাই কেউ স্টে অর্ডার নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট জমা রাখার বিধান চালু করা উচিত।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com