
বান্দরবান : গতকাল থেকে টানা বর্ষন অব্যাহত থাকায় বান্দরবানে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা। তাই পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জরুরি মাইকিং করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রত্যেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সাত উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারনে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে জেলার কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল। সাঙ্গু নদীর পানি বিপদ সঙ্কুল। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে তলিয়ে যেতে পারে শহরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর ওয়াবদা ব্রীজ, মেম্বারপাড়া, মধ্যমপাড়া ও শেরেবাংলা নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। এছাড়া শহরের কালাঘাটা বালাঘাটা লাঙ্গি পাড়াসহ সাত উপজেলায় পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে হাজারো বাসিন্দা। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্বস্ব এলাকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষনা করেছে প্রশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় কেন্দ্রে উঠার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।
বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা সদরসহ সাত উপজেলায় মাইকিং চলছে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদেরকে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বলেছি। সেখানে তাদের খাবার-দাবার সবকিছু আমরা ব্যবস্থা করব। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০৬ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সাত উপজেলায় ৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। স্বস্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ তার দায়িত্বে আছেন। প্রয়োজন হলে আমরা ১৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহার করব। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অনুরোধ জানাই তারা যেন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাতের কারনে পাহাড় ধ্বসে প্রাণ হারায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বাসিন্দারা।