1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যভিচারের শাস্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তি নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না: রুমিন ফারহানা আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমির ভারতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত শেরপুরে বৃক্ষরোপণ, স্কুল ড্রেস-ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরেছে, না কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ: জানতে চান হাসনাত নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: ১৫০০ নিখোঁজ, ৮০০ জনই বিদেশি দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

ব্যভিচারের শাস্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তি

  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

– মনিরুল ইসলাম মনির –
জিনা বা ব্যভিচার, অসামাজিক কার্যকলাপ অথবা ধর্ষণ। শুধু সমাজের দৃষ্টিতে নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমন ধরণের অপরাধ বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে (ইসলামের) শাস্তির বিধান ভিন্ন। যদি ব্যভিচারী ও ব্যভিচারীনি বিবাহিত হয় তবে মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করতে হবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। যাকে বলা হয় মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে অবিবাহিত হলে একশ দোররা মারার বিধান রয়েছে। এতে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি জীবিত থাকতে পারেন, মারাও যেতে পারেন। আবার যদি জোরপূর্বক ধর্ষণ হয় সেক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি একই পদ্ধতিতে কার্যকর হবে।
তবে ইসলামে ধর্ষণের শিকার নারী সম্পূর্ণ নির্দোষ ও মজলুম। তার ওপর কোনো ধরনের দুনিয়াবি শাস্তি বা আইনি দায় বর্তায় না। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ধর্ষণের শিকার এক নারীকে বলেছেন “আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন” (যেহেতু সে বাধ্য হয়েছিল)। আবার অনেক ফিক্হবিদের মতে, বলপ্রয়োগকারী ধর্ষককে ভুক্তভোগী নারীর উপযুক্ত অর্থদণ্ড বা সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ (মোহর) প্রদান করতে হবে।

এখন কথা হলো, ধর্ষণ বা ব্যভিচারের শাস্তির আগে তা প্রমাণের জন্য কি রীতি রয়েছে। ইসলামে বিভিন্ন ইমামের মতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। যেমন ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এর মতে, ব্যভিচাররত অবস্থায় চারজন ব্যক্তি সরাসরি সচক্ষে দেখতে হবে। এরমধ্যে চারজনই প্রাপ্ত বয়স্ক, মানসিকভাবে সুস্থ, মুসলিম এবং সত্যবাদী হতে হবে। আবার এদের একজন নারী হলেও তা পূূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। এক্ষেত্রে একজন পুরুষ সমান দুইজন নারী হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপরও চারজন সাক্ষীকে একযোগে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে। সাক্ষীদাতা যদি ফাসেক বা মিথ্যাবাদী হয়, সেক্ষেত্রে তার সাক্ষ্য অগ্রাহ্য হবে। সব সাক্ষীকে সরাসরি ব্যভিচাররত অবস্থায় না দেখে কেউ অনুমান নির্ভর সাক্ষ্য দিলেও তা অগ্রাহ্য হবে। আবার কারও একটি চক্ষু অন্ধ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণে মতভেদ রয়েছে। এতসব একসাথে হলে তারপর না একজনকে ব্যভিচারের শাস্তিযোগ্য করা যাবে বা বলঅ যাবে। যা অনেক দুঃসাধ্য। অন্যথায় সাক্ষ্যদাতা নিজেই অপবাদদাতা হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে ৮০টি বেত্রাঘাত করতে হবে।

বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় একজন দেখি বা দেখিই না। শুধুমাত্র আচরণ সন্দেহজনক হলেই দোষ চাপিয়ে দেই। আবার কিছুই দেখিনি বা অনুমানও করিনি, শুধুমাত্র লোকমুখে শোনে অপবাদ ছড়িয়ে দেই। বিশেষ করে, নিজেদের পাপের কথা না ভেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যকে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত করি, শাস্তির দাবী জানাই। আদৌ নিজেরা সরাসরি বিষয়টি প্রমাণের চেষ্টা তো দূরের কথা, ইচ্ছেটাও প্রকাশ করি না। অনেক টুপি-দাড়ি ওয়ালাকেও দেখি, ফেসবুকে এসব নিয়ে বেশ সরব। অথচ, তারা নিজেরাই বড় অন্যায়টি করছেন। ইসলামী আইনব্যবস্থা চালু থাকলে তারাও বরং ৮০টি বেত্রাঘাতের উপযুক্ত হতেন। শোনেছি, অনেক কানাঘোঁষা হয়েছে, অমুক বলেছে- ইসলামে এসবের ভিত্তি নেই। বর্তমান প্রচলিত আইনেও এর ভিত্তি নেই। বরং ভুক্তভোগীর বিবরণ বা জবানবন্দি, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনসাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আর আমরা লোকমুখে শোনে বা ঘটনার গভীরে না গিয়ে শুধুমাত্র কথা চালাচালি বা বড়জোর ভুক্তভোগীর স্বাভাবিক কথার উপরেই সমালোচনার পসরা সাজিয়ে শাস্তির দাবী তুলি। যাকে ঘিরে এসব কথাবার্তা তার কাছ থেকেও ন্যুনতম জানার চেষ্টা করি না, ঘটনা আসলে কি? ভুক্তভোগীর কথা বিশ্লেষণও করি না, সত্যিকারে কি ঘটেছে?

বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করলেই কখনো কখনো এসব বিষয় নিয়ে অনেককে বেশ সরব দেখি। তাদের কাছে জানতে চাইলে সবাই বলবে, “আমরা এর আগেও শোনেছি, ঘটনা সত্য বা এই লোক এমনই অথবা এই ঘটনা মিথ্যা হতে পারে না বা অমুক মিথ্যা বলতে পারে না”- এসব হলো আমাদের ভিত্তি। যার নেই কোন আইনী ভিত্তি, নেই ধর্মীয় ভিত্তি। লোকমুখে শোনে বা অস্বাভাবিক আচরণকে সরাসরি ব্যভিচার বলে চালিয়ে আবার ওই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে সরাসরি বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাই। একবার ভাবি না, তার সমাজ আছে, পরিবার আছে, আত্মসম্মান আছে।

আরও একটি বিষয় হলো, সমকামীতা বা বলাৎকার। এ বিষয়টি আরও জঘন্য এবং মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয়। যার ফলে হযরত লুত (আঃ) এর সময়ে পুরো জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে। এমন সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে শাস্তি দিতে হলে বা শাস্তির দাবী জানাতে হলেও প্রয়োজন অকাট্য দলিল। তিলকে তাল বানিয়ে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হেয় করতে এক রকম ঘটনা অন্যরকম বলে প্রচার করলে তা অনুচিত এবং অন্যায়। আপনি আল্লাহর কোন হুকুম লঙ্ঘন করলে তাওবা করে মাফ পেতে পারেন। কিন্তু অন্যের সম্মান নষ্ট করে তাকে কষ্ট দিলে কখনোই এই পাপের ক্ষমা পাবেন না। এই বিষয়টি আল্লাহ তা’আলা নিজে ক্ষমার বাইরে রেখেছেন।

সুতরাং, ভেবেচিন্তে আমাদের কথা বলা উচিত। যাচাই-বাছাই করে শাস্তির দাবী জানানো উচিত। শুধু সাধারণ মানুষ নন, আমাদের গণমাধ্যমও এর দায় এড়াতে পারে না। প্রাথমিক ঘটনা জেনেই উপযুক্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া মিডিয়া ট্রায়াল করে যে অপরাধ আমরা করছি, তার পইপই করে হিসাব দিতে হবে কেয়ামতের মাঠে। শেষ বিচার বলে একটি দিন রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com