1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ক্লোজড নিজ দলের কর্মী ছাড়া জামায়াত অন্য কাউকে ভিক্ষাও দেয় না: এমপি খোকন স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে চলতো ডিজে পার্টি, মাদক-নারীসহ আটক ৮৪ ‘ক্রেন’ দিয়ে চা-বিস্কুট পরিবেশন করেন নেত্রকোনার হাতেম নতুন ছবি প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়া জানালো কিম জং উন বেঁচে আছেন নকলায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার নকলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রাব্বেনুর চৌধুরী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক সহায়তা প্রদান ইউনিয়ন নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী

অযত্ন-অবহেলায় ঝিনাইগাতীর বধ্যভূমি ও ‘স্মৃতিস্তম্ভ’

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

জাহিদুল হক মনির, ঝিনাইগাতি: শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়ক ঘেঁষা ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন থেকে পশ্চিমে প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা পেরোলেই বাঁশ ঝাড়ের নিচে দেখা মিলবে একটি পাকা স্থাপনা। কেউ দেখিয়ে না দিলে বোঝার উপায় নেই, এই বাঁশ ঝাড়ের নিচে পাকা স্থাপনা ঘিরে রয়েছে শহীদদের গণকবর ও বধ্যভূমি। কোনো নামফলক না থাকায় স্থানীয়রা ছাড়া নতুন কেউ বুঝতেই পারবে না এই ঐতিহাসিক বধ্যভূমির অস্তিত্ব। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আল বদরদের নির্যাতন ও গণহত্যার সাক্ষী হয়ে অবহেলায়-অযত্নে পড়ে আছে এ বধ্যভূমি।

সরেজমিন দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভে শেওলা পড়ে গেছে। অসংখ্য পরগাছা জন্মেছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে শুকানো হচ্ছে লাকড়ি। বেদির ওপর পড়ে আছে গোবর ও খড়। বাঁশ ঝাড়ের নিচে নাম না জানা শহীদের স্মরণে এখানে শুধু একটি ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী জেলার সবচেয়ে বড় ক্যাম্প স্থাপন করে কয়ারি রোড এলাকায়। এখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। ক্যাম্পের পাশেই ছিল টর্চার সেল। যুদ্ধের সময় মানুষের আর্তচিৎকার এখান থেকে ভেসে আসতো। ক্যাম্পের ৫০০ মিটার পশ্চিম পাশে ১০ শতাংশ জমিজুড়ে তিন ফুট গভীর গর্ত ছিল। যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী অসংখ্য মানুষকে ধরে এই ক্যাম্পে এনে নির্যাতন করে মেরে ফেলতো। পরে এই গর্তে মরদেহ ফেলে দিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামবাসী এলাকায় ফিরে এসে বড় গর্তটিতে অসংখ্য লাশ দেখতে পান। পরে তারা মিলে গর্তে থাকা লাশগুলো মাটিচাপা দেন। পাকিস্তানি বাহিনী চলে যাওয়ার পর পরিত্যক্ত ঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের শরণার্থী শিবির করা হয়। ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ বাড়ি ফেরার পথে এই শিবিরে দুই-তিন দিন বিশ্রাম করতেন। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী ১২ শতাংশ এই বধ্যভূমির জমি অধিগ্রহণ করে একটি ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করে।

স্থানীয় শিক্ষক আলমগীর হোসাইন বলেন, আমরা শুনেছি পাকিস্তানি হানাদাররা টর্চার সেলে মানুষকে নির্যাতন করেছে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে যারা মারা যেতেন, তাদের এখানের গর্তে ফেলে দেওয়া হতো। এখানে শতশত মানুষের লাশ পুঁতে রাখা আছে।

সাবেক ইউপি সদস্য আকবর আলী বলেন, এই বধ্যভূমির কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এমনকি দেখাশোনার জন্য কোনো কমিটিও নেই।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ্জামান আকন্দ বলেন, এ উপজেলার ঘাগড়া কুনাপাড়া গ্রামের স্মৃতিস্তম্ভটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে। আজ পর্যন্ত এর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এখানে অবাধে বিচরণ করে গরু-ছাগল। শুকানো হয় গরুর গোবর। এটি জাতির জন্য খুবই লজ্জা ও দুঃখজনক বিষয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। দ্রুত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বধ্যভূমির সীমানা প্রাচীরসহ সারাবছর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুন প্রজন্ম যেন এই বধ্যভূমির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে, সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com