1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম ১১৭ বছরে পা দিলেন বিশ্বের দীর্ঘজীবী নারী স্টার্কের ৬ উইকেটের জবাবে শরীফুলের ৬, রোমাঞ্চকর দিনে ১০১ রানে এগিয়ে অজিরা ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা, হবে উপনির্বাচন নকলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি শপথ নিলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, রাতে শপথ মাদকবিরোধী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে মাদকসহ দুই মাদক কারবারিকে ধরে পুলিশে সোপর্দ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাতে গার্মেন্টসে কাজ করতে চান শ্রীবরদীর মেধাবী ফাহিমের

  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

রানা, শ্রীবরদী : দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম মিয়া। তবে অর্থাভাবে তার সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে গার্মেন্টসে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ফাহিম উপজেলার তাঁতিহাটি ইউনিয়নের জানকিখিলা এলাকার বাসিন্দা। পিতা মোখলেছুর রহমান একজন মৌসুমি দিনমজুর এবং মাতা সেলিনা বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ফাহিম শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন।

জানা যায়, মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে দাদির কাছেই তার বেড়ে ওঠা। বর্তমানে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অন্যের জমিতে একটি দোচালা ঘরে বসবাস করছেন তারা। নিজস্ব কোনো জমিজমা না থাকায় দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়।

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনায় থেমে থাকেননি ফাহিম। তিনি শ্রীবরদী এপিপিআই হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং শ্রীবরদী সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৫৮ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। অর্থাভাবে কোনো কোচিংয়ে ভর্তি হতে না পারলেও অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।

তার এ প্রচেষ্টার ফলও মিলেছে। তিনি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটে ৪৯০৬তম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রযুক্তি ইউনিটে ৩৮২তম এবং কৃষি গুচ্ছে অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন।

ফাহিম বলেন, “ছোট থেকেই অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। নবম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু টাকার অভাবে কীভাবে ভর্তি হব বুঝতে পারছি না। প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে হলেও টাকা জোগাড় করব।”

তার আশ্রয়দাতা লুৎফর রহমান বলেন, “ফাহিম খুব মেধাবী। কিন্তু অর্থাভাবে তার পড়াশোনা থেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে সে অনেক দূর যেতে পারবে।”

ফাহিমের বাবা মোখলেছুর রহমান বলেন, “আমি গরিব মানুষ, ছেলেকে সহযোগিতা করার মতো সামর্থ্য নেই। কেউ সাহায্য করলে সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।”

শিক্ষকরাও তার মেধা ও সংগ্রামের প্রশংসা করেছেন। শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রিফাত আহমেদ বলেন, “ফাহিম অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। কোচিং ছাড়াই সে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই পথচলা থেমে যাওয়া উচিত নয়।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধুমাত্র অর্থাভাবে যেন এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে না যায়—সে জন্য সমাজের সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com