1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, কাঁদামাটিতে বিপর্যস্ত বান্দরবান

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি : টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বান্দরবানে। জেলার প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে ধীরে ধীরে পানি সরে যাচ্ছে। তবে পানি কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। বরং ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট কাঁদামাটিতে ভরে যাওয়ায় নতুন সংকটে পড়েছেন বন্যাকবলিত মানুষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান কাঁদামাটি জমে রয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাসিন্দা জানান, টানা পাঁচ দিন পানিবন্দি থাকার পর গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমলে পানি নামতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় পানি নেমে গেলেও ঘর-বাড়ি ও দোকানপাট কাঁদায় ভরে গেছে। অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকটে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মংহ্লা মার্মা বলেন, পানি নেমে গেছে, কিন্তু পুরো ঘর কাঁদামাটিতে ভরে আছে। সকাল থেকে পরিষ্কার করছি, সারাদিন লেগে যাবে।

পৌরসভার মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বন্যার সময় পাঁচ দিন পানিবন্দি ছিলাম। গতকাল বিকাল থেকে পানি কমেছে। কিন্তু এখন দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাস্তা-ঘাটে কাঁদা ও ময়লা জমে আছে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামত করতে অনেকদিন সময় লাগবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু নদীর পানি ১২ দশমিক ৮০ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ১১ দশমিক ১৬ মিটারে নেমে এসেছে। বৃষ্টিপাত না বাড়লে পানি আরও কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (১৩ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত) জেলায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে। তবে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, পানি নেমে যাওয়া এলাকায় মানুষ নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও খাদ্য সংকটে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com