
আসিফ আমানুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নেতাই নদ থেকে দীর্ঘদিন পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।
ওভারলোড বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক রক্ষার দাবিতে রোববার (২ আগস্ট ) বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোরা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা অতিরিক্ত ওজন বহনকারী ট্রাকের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধোবাউড়ার বিভিন্ন বালুমহাল থেকে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বালু বোঝাই করে ট্রাক আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধোবাউড়ায় কংস নদের বেইলী সেতু ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প হিসেবে বালুবাহী ট্রাকগুলো হালুয়াঘাট সদর, গাজীরভিটা, বিলডোরা, শাকুয়াই, আমতৈল ও স্বদেশী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে, তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশও ভেঙে পড়েছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা ওভারলোড ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারেরও আহ্বান জানান তারা।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে, যাতে ওভারলোড ট্রাক এ পথে না আসে। তিনি জানান, হালুয়াঘাটের সড়কে চলাচলকারী ১০টি ট্রাককে ইতোমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে।
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। আগামীকাল থেকে ওভারলোড ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে ধোবাউড়া নেতাই নদের বালুমহালের ইজারাদার হারুন-অর রশিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।