1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

দুর্গাপূজায় ‘মদ খেয়ে নাচানাচি’ করলে ঘাড়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে: ফেনীর পুলিশ সুপার

  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ফেনী: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পূজা চলাকালে মদ্যপান করে কোনো ধরনের মাতলামি বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না; এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঘাড়ে ধরে থানায় নিয়ে আসা হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় দেওয়া তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মাদক সংক্রান্ত ঝুঁকি তুলে ধরে সভায় পুলিশ সুপার বলেন, ‘ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ পাওয়া তুলনামূলক সহজলভ্য। তবে পূজার পবিত্রতা বা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে কেউ যদি মদ খেয়ে নাচানাচি বা মাতলামি করে, তবে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ তাকে ঘাড়ে ধরে নিয়ে আসবে। আমাদের নিয়োজিত মেডিকেল টিমের কাছে নিয়ে গিয়ে পেট ওয়াশ করানো হবে এবং তাৎক্ষণিক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূজামণ্ডপগুলোতে দু-একজনের এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণেই সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হয় এবং অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুযোগ পায়। পুলিশ এবার এসব ঘটনা কঠোর হাতে দমন করবে। প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, শহরকেন্দ্রিক ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়েও বিশেষ সতর্কতা জারি থাকবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে সন্তোষজনক দাবি করে তিনি বলেন, জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে; ফলে যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো ছাড় নেই।

ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, ডিডিএলজি নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা। জেলা প্রশাসক জানান, মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও বিজিবির যৌথ টহলের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও গুজব প্রতিরোধে খোলা থাকবে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম।

এদিকে পুলিশ সুপারের এমন কঠোর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা। ফেনী জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর জানান, দীর্ঘ সাত বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকাকালে ফেনীর মণ্ডপগুলোতে মদ খেয়ে বড় ধরনের মাতলামির কোনো নজির তার চোখে পড়েনি। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সুপারের এই কঠোর বার্তাকে তারা পূর্ণ সমর্থন ও স্বাগত জানাচ্ছেন। পূজার পবিত্রতাকে ঢাল বানিয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় এবার মোট ১৫৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গতবারের তুলনায় তিনটি বেশি। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি এবং ছাগলনাইয়ায় ৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com