1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণও করেন সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলার কাগজ ডেস্ক : নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ভাড়া করে তাজমিন। তবে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কিশোরীকে নিয়ে বিজরার দিকে রওনা হয় চালক। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তাজমিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশের ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। কিশোরী দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালালেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাবু হয়ে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বীকার করেছে, সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে সে। হত্যাকাণ্ড শেষে সে পাশের একটি পুকুরে গোসল করে এবং নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন হাতিয়ে নেয়। মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশা ফেলে রেখেই চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায় সুমন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে চালক সুমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। আদালতে অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার ও উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করায় পরিবারসহ নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবারের মতো কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায়। তবে গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com