
আসিফ আমানুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবিদ্ধ হয়ে নোমান মিয়া (৩০) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। নোমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হালুয়াঘাট সদরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন ঝলঝলিয়া (জলজলিয়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।
৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর পৌনে ছয়টার দিকে ঝলঝলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহলদল। এ সময় কিছু মালামাল জব্দ করা হয়। সেগুলো নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা টহলদলের ওপর হামলা চালায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছুড়েন বিজিবি সদস্যরা। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকে এবং এক সদস্য আহত হন। এ অবস্থায় নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন তারা। পরে গুলিবিদ্ধ নোমানকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
তবে বিজিবির এ বক্তব্য অস্বীকার করেছেন নিহত নোমানের ছোট ভাই আবু রাইহান। তার অভিযোগ, রাতে বিজিবি সদস্যরা এলাকায় গরু খুঁজছিলেন। পরে ফোন পেয়ে তার ভাই ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারা-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়।
আবু রাইহানের আরও অভিযোগ, ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন ঘণ্টা তার ভাইকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। এ সময় কাউকে তার কাছে যেতে বা হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে ভাইকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে দাবি করেন তিনি।
নোমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝলঝলিয়া এলাকার শত শত মানুষ হালুয়াঘাট সদরে জড়ো হন। তারা ময়মনসিংহ-আঞ্চলিক মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল বলেন, “সকালে আমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনেছি। বিজিবির এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।।”
হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, বিজিবির গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল, তা সুষ্ঠু তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।