
বগুড়া: দীর্ঘ ২০ বছরের উন্নয়ন বৈষম্য ও বঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের রেলপথ, ১ হাজার কোটি টাকার স্পোর্টস ভিলেজ, ২ হাজার কোটি টাকার সিটি কর্পোরেশন অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা প্রকল্প।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।
বগুড়ার অবকাঠামোগত পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সুবিধার্থে বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে রূপকল্পের কথা জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং শহরের প্রধান প্রধান মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিরসন ও নগরায়ণের প্রাথমিক কাজের জন্য ইতোমধ্যেই ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
অবকাঠামোগত বরাদ্দের বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলা হবে। নবাগত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার ১৩টি উপজেলার টেকসই উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আরও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে।
তিনি আরও জানান, দ্রুতই বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু হবে এবং উপজেলার ডাকবাংলো ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল এবং গবেষণা প্রসারে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমুখী উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সুযোগ-সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া কৃষিতে উদ্বৃত্ত একটি জেলা, যেখানে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু বিগত ২০ বছর ধরে এই অঞ্চলকে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। বগুড়াকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে।
দেশজুড়ে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি ও গোপালগঞ্জের জন্য ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট জেলার জন্য নয়, দেশের সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এসময় তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ভালো কাজের প্রতি সমর্থন জানানো এবং বগুড়ার সার্বিক অবকাঠামোগত অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ প্রমুখ।