1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মানুষ আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের নকলায় জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সফল দুই হাফেজকে গ্রামবাসীর সংবর্ধনা মানবিক সহায়তায় অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক তল্লাশির সময় ভূয়া ভেবে ২ পুলিশ সদস্যকে তুলে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা জামালপুরে তিন ঘণ্টা নারিকেল গাছে আটকে থাকল কিশোর! নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠ, ইরানে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত শিগগিরই নিশ্চিন্তপুর মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ শেরপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২-এর উদ্বোধন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠ, ইরানে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত শিগগিরই

  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রথম বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এখন মূল সিদ্ধান্ত-ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে নতুন করে ব্যাপক বোমা হামলা শুরু করা হবে, নাকি আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। আপাতত ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে। এগুলো হলো, নতুন করে সামরিক হামলা চালানো, ইরানের শাসনব্যবস্থার ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা তেহরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন ট্রাম্প ও তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা। সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কি আরও এগোব?’

তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’

ট্রাম্প যখন ইরানে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, তখন বৃহস্পতিবার অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এদিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেন।

এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। প্রস্তাবে বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করতে দুই পক্ষকে দুই দিনের মধ্যে ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং দেশটির জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবে। এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক সূত্রগুলো।

দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এরপর ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হবে। এসব আলোচনায় দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বৃহস্পতিবার মস্কোর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

পুতিন ও রেজায়ীয়ের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের কয়েক দিন পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রেজায়ী জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা তিনি পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তা করার জন্য পুতিন তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকের পর রেজায়ী বলেন, ‘আমরা মিস্টার পুতিনকে জানিয়েছি, কূটনীতি নিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত ঘোষণা করেছি। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ওই সাতটি শর্ত পূরণ না করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।’

এদিকে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে। সেখানে জাহাজগুলো বন্দরে যাত্রাবিরতি করবে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে রণতরিটি সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছাবে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com