
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : মাদকবিরোধী সংগঠন করে ওই সংগঠনের সদস্যরা মাদকবিরোধী তল্লাসী চালিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় গন্যমান্যদের নিয়ে সালিশি বৈঠকেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) শেরপুরের নালিতাবাড়ী শহরের ৫নং ওয়ার্ডের অন্তরা সিনেমা হলপট্টির গলিতে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার ওই যুবকের নাম সালমান (১৯)। সে নওশের আলীর ছেলে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সালমান জানায়, গত বুধবার মধ্যরাতে হলপট্টির গলি দিয়ে বাসায় ফিরছিল সালমান। এসময় ছিটপাড়া মাদকবিরোধী কমিটির প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক সালমানের পথ রোধ করে মাদক আছে মর্মে তার দেহ তল্লাসী চালায়। একপর্যায়ে তার কাছে কোন মাদক না পেয়ে পকেটে রাখা সাড়ে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরদিন এ নিয়ে সালমান স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলরসহ আশপাশের গণ্যমান্যদের জানায়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের সোনালী ব্যাংক এর নিচতলার একটি সমিতির কার্যালয়ে সালিশ বসে। সালিশে মাদকের কথা বলে তল্লাসী ও টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হলে উপস্থিত বিচারকগণ ছিনতকাইকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে ছিটপাড়া মাদকবিরোধী সংগঠনের সভাপতি বাসচালক আব্দুল মালেক এর একাধিক ছেলে মাদকে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। রয়েছে মামলাও। একই কমিটিতে সমাজের ভালো মানুষের পাশাপাশি মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই রয়েছেন বলেও জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, মাদকবিরোধী সংগঠনের নামে মাদকবিরোধী আন্দোলন করে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে ভিন্ন কারণ। কারণ
হিসেবে তারা জানান, এই সংগঠন ও আন্দোলনে জড়িত অনেকেই নানাভাবে সম্প্রতি মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন মামলা বা অভিযোগ হয়নি। নিজেদের অপরাধের বিষয়টি আড়াল করতেই তারা মাদকবিরোধী সংগঠনে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এক মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তার নিরপরাধ মা ও ভাইদের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেন কতিপয় ব্যক্তি। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ব্যক্তির ছত্রছায়ায় ছিটপাড়া মহল্লায় ব্যাপকভাবে মাদক বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে চুরির ঘটনাও। এমতাবস্থায় পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি মাদকবিরোধী কর্মকাÐ জরুরী। তবে একই সাথে মাদকবিরোধী সংগঠন ও আন্দোলনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রাণী করে নিজেদের অপকর্ম যেন কেউ আড়াল করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনের কড়া নজরদারী রাখা জরুরী।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, মাদকবিরোধী সংগঠনের নামে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। কাউকে হয়রাণী করা যাবে না। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে মাদকবিরোধী পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হবে।