1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১২১৪ এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-সারজিসরা নালিতাবাড়ীতে ধানের উদ্ভাবক সেন্টু হাজংয়ের কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিসি নালিতাবাড়ীতে মাংসের তিন দোকানকে জরিমানা শ্রীবরদী সরকারি কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সংবর্ধনা রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭৭ আসামি ধরে ফেরার পথে বিএনপি নেতা ও পুলিশের এসআই নিহত দেশে পৌঁছেছে সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি, নিহত ১৮

পায়ে হাঁটার রাস্তা নেই তবু উনচল্লিশ লাখ টাকায় দুই সেতু

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

মনিরুল ইসলাম মনির : পায়ে হেঁটে চলারও কোন রাস্তা নেই। রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ। আর মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা অত্যন্ত সরু ও অগভীর নালার মতো একটি খাল। এ খালের উপরই মাত্র ৩-৪শ মিটারের ব্যবধানে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই সেতু। অথচ আশপাশের চার গ্রামের মানুষের আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য ভাবেননি কেউই। এমন চিত্র শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের ছালুয়াতলা ও রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের আয়নাতলী গ্রামে।
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, গত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নালিতাবাড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী ও রূপনারায়নকুড়া এ দুই ইউনিয়নের বুকচিরে বয়ে যাওয়া ‘মঙলা খালী’ নামে একটি সরু ও অগভীর খালে দুইটি সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। যথাক্রমে ছালুয়াতলা গ্রামের অংশে ‘আয়নাতলী মঙলা খালী খালের উপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ’ ও প্রায় ৪শ মিটার দূরে ‘ছালুয়াতলা-আয়নাতলী রাস্তার মরাখালী খালের উপর ২২ ফুট দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যথাক্রমে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুতে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২২ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুতে ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৫১৬ টাকা বরাদ্দ করে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। তবে খালের তীরবর্তী জমির মালিকের আপত্তির মুখে সেতু দুটি পাল্টাপাল্টি স্থানান্তরের মাধ্যমে উল্লেখিত পজিশনে নির্মিত হয়।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দুটি সেতুরই কোন সংযোগ সড়ক তো দূরের কথা একপাশ থেকে অন্যপাশে পায়ে হেঁটে চলার কোন গন্তব্যের চিহ্নও নেই। আছে শুধু ফসলি জমি আর সেসব জমির আইল।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খালটিকে ঘিরে পাশাপাশি অবস্থানে রয়েছে ছালুয়াতলা, আয়নাতলী, কদমতলী ও কৃষ্ণপুর গ্রাম। চারপাশে এ চারটি গ্রামের অংশের মাঝখানে পৃথক ফসলি মাঠ থাকলেও নেই পায়ে হেঁটে চলার মতো সরু কোন কাঁচা রাস্তাও। ফলে প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু দুটি কোন কাজেই আসছে না। রাস্তাবিহীন এ সেতু দুটি বরং সরকারী অর্থ অপচয়েরই নামান্তর। তবে সেতুর দুইপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য অন্তত কাঁচা রাস্তা তৈরি হলে কয়েক হাজার মানুষের আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও শত শত একর জমির ফসল ঘরে তোলতে কৃষকের সুফলের অন্ত থাকবে না। এ দাবী তারা দীর্ঘদিন যাবত করে এলেও এদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই দায়িত্বশীল কারও।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাইয়ুম জানান, ব্রিজ হয়েছে রাস্তা নেই, এমন ব্রিজের দাম কি? অপর কৃষক আব্দুস সালাম জানান, এই (ছালুয়াতলা পূর্বপাড়ার) রাস্তা যদি ওই রাস্তার (ছালুয়াতলা ফকিরপাড়া) সাথে লাগিয়ে নতুন রাস্তা করা হয় তবে আমগরে চলাচলের জন্য অনেক সুবিধা হবে। আরেক চাষী সেলিম মিয়া জানান, এখানে অযথা ব্রিজ করা হয়েছে। আমগরে কোন রাস্তা নেই। রাস্তা হলে আমগরে চলাচলের সুবিধা হতো। আব্দুর রহমান জানান, আয়নাতলী, কৃষ্ণপুর, কদমতলী ও ছালুয়াতলায় যোগাযোগের কোন রাস্তা নেই। এইখানে দুইটি ব্রিজ করা হয়েছে অথচ কোন কামেই লাগে না। তবে যদি রাস্তা করা হয় তাহলে অনেক সুবিধা হবে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মাস্টার জানান, ওই ব্রিজে রাস্তা সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পার্শ্ববর্তী রূপনারায়নকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাৎক্ষণিক তাকে পাওয়া যায়নি বলে তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, সেতু দুটি যেহেতু আগের তৈরি তাই আমার জানা ছিল না। তিনি দায়িত্বশীলদের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমাকে কোনদিন এ কথা জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আমি দ্রুত পরিদর্শন করে যত দ্রুত সম্ভব কোন প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com