1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নালিতাবাড়ীতে এমপির ১৫০০ গাছের চারা বিতরণ ঝিনাইগাতীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, বেকার হাজারো শ্রমিক মিয়ানমারে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশির মৃত্যু সবাইকে নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঝাঁপ দিতে হবে: সিইসি বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে : আইনমন্ত্রী বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি : নাহিদ ইসলাম নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন শেরপুরে রাইস কুকারে রান্নার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

একই পরিবারে চার প্রতিবন্ধীর কেউই পাননি জাতীয় পরিচয়পত্র: সরকারী সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত পরিবারটি টিকে আছে ভিক্ষাবৃত্তি করে

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) : ছয় সদস্যের পরিবারে চারজনই প্রতিবন্ধি। বৃদ্ধা মা আমেলা বেগম ও তার তিন কন্যার হয়নি জাতীয় পরিচয়পত্র। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারী সুযোগ-সুবিধা থেকে। ভিক্ষাবৃত্তি করে বেঁচে থাকা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অসহায় এ পরিবারটির দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে।

সরজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মিলে ৪ প্রতিবন্ধী, আরও এক ছেলে এবং মেয়েসহ বড় এ পরিবারটির বাড়ি উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নে উত্তর দাড়িয়ারপাড় গ্রামে। স্বামী আব্দুল আলীর মৃত্যুর পর ভিক্ষাবৃত্তি করে এদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বিধবা আমেলা বেগম।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, আমেলার বয়স প্রায় একশো ছয় বছর ছুঁই ছুঁই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ছেন তিনি। আর্থিক সংকট থাকায় নিতে পারেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। ঘরে নেই থাকার মতো চৌকি। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। রাতের বেলায় মেঝেতে একটি পাটি বিছিয়ে কাঁথা মুড়িয়ে গাদাগাদি করে শোয়ে থাকেন তারা। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তাদের।

বৃদ্ধা আমেলা বেগমের বড় মেয়ে আবেদা বেগম জানান, তার মা ও তিনি দু’জনই সুস্থ। ছোট বোন আফরোজা, দোলেনা, অজুফা ও ছোট ভাই আলী হোসেন মানসিক ভারসাম্যহীন। ছোট তিন বোন ও তার মায়ের আজও হয়নি জন্ম নিবন্ধন, হয়নি ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র। জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকায় মিলছে না সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, প্রায় ত্রিশ বছর আগে আব্দুল আলী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দু’মুঠো ভাতের আশায় আমেলা সন্তানদের নিয়ে চলে যান ঢাকায়। সেখানে হোটেল ছাড়াও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন চলতো তাদের। এমন অবস্থা দেখে ঢাকার এক ব্যবসায়ী তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর নিজ গ্রাম উত্তর দাড়িয়ারপাড়ে বৃদ্ধা আমেলার স্বামীর রেখে যাওয়া জমিতে একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে দেন।

এলাকাবাসী জানান, বৃদ্ধা বিধবার বড় মেয়ে আবেদা বেগমের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। বর্তমানে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বাড়িতে থাকে প্রতিবন্ধী কন্যা দোলেনা, আফরোজা ও অজুফা। তাদের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র। ফলে সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধাও তারা পান না। প্রতিদিন ভিক্ষাবৃত্তি করে খেয়ে না খেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এমতাবস্থায় দুস্থ এ পরিবারটিকে সরকারী সুযোগ-সুবিধা প্রদান ছাড়াও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তারা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com