1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নালিতাবাড়ীতে এমপির ১৫০০ গাছের চারা বিতরণ ঝিনাইগাতীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, বেকার হাজারো শ্রমিক মিয়ানমারে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশির মৃত্যু সবাইকে নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঝাঁপ দিতে হবে: সিইসি বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে : আইনমন্ত্রী বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি : নাহিদ ইসলাম নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন শেরপুরে রাইস কুকারে রান্নার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

কুয়াকাটায় অযত্ন-অবহেলায় ২৪০ বছরের প্রাচীন নৌকা

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কুয়াকাটায় প্রায় একযুগ আগে সৈকতের বুক চিরে জেগে উঠেছিলো ২৪০ বছরের পুরাতন প্রাচীন পাল তোলা নৌকা। কিন্তু এটিকে ভালো ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়নি গত দশ বছরেও। এর ফলে অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিক এ নির্দশনটি।

নৌকাটি ২০১৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন বেড়ি বাঁধের পাশে স্থাপন করে। সেই থেকে এখনও অরক্ষিতই রয়ে গেছে। নেই রাত্রিকালীন আলোর ব্যবস্থা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাচীন এ নৌকাটি যথাযথভাবে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭৮৪ সালের পরে রাখাইন সম্প্রদায়ের পূর্ব পুরুষরা এই নৌকাযোগে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে আসে। পর্যটকদের ব্যাপক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ নৌকাটি ২০১২ সালে জেলেদের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসে। কুয়াকাটা সৈকতের জিরোপয়েন্ট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বে পূর্বদিকে বালুর বুক চিরে নৌকাটি তখন সামান্য বেড়িয়ে আসে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টেকনিক্যাল সহায়তায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পৃক্ত করে ২০১৩ সালের ২৭ ফেরুয়ারি রেললাইনে তুলে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বৌদ্ধবিহারের পাশে প্রতিস্থাপন করা হয়। ৭২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের নৌকাটির ওজন ৯০ টন। এই নৌকাটি ২০০ বছর বা তারও অধিক পুরানো। এটি রাখাইনদের তৈরি নৌকা হতে পারে বলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দাবি। ওই সময় নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয় তামার তৈরি পেরেক, নারিকেলের মালাই, নারিকেলের ছোবলা দিয়ে বানানো রশি, ভাঙা মৃৎ পাত্রের টুকরো, প্রচুর ধানের বহিরাবরণ/চিটা, পাটকাঠি, মাদুরের অবশেষ, পাটের তৈরি ছালার নিদর্শন, লোহার ভারি ও বিশালাকৃতির শিকল। যার মধ্যে বেশ কিছু নিদর্শন বর্তমানে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত রয়েছে।

রাজশাহী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সিরাজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় একযুগ আগে। কিন্তু এখনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি এটা দুঃখজনক।

কুয়াকাটার কেরানীপাড়া রাখাইন নেতা উচাচিং মাতুব্বর বলেন, এ নৌকা তাদের পূর্বপুরুষরাই আরাকানে বসে তৈরি করেছে। এরপর এমন অন্তত ৫০টি নৌকাযোগে ১৫০টি পরিবার মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে এসে ১৭৮৪ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা কুয়াকাটাসহ আশপাশের এলাকায় তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন (কুটুম) এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, ২০১৩ সালে নৌকাটি সংরক্ষণ করলেও এটি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। নৌকাটি কুয়াকাটা বিচ থেকে একটু দূরে কোথাও সংরক্ষণ করা হলে আরো একটি পর্যটন স্পট বাড়বে। নৌকাটি থেকে যে সব নিদর্শন পাওয়া গেছে তা কুয়াকাটায় সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের দাবি জানান তিনি।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বরত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, প্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক এ নোকাটি সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com