1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
‘ধর্মীয় কারণ নয়’, নদীভাঙন ঠেকাতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতার’ চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে তালিকা করে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেরপুরে সাপের দংশনে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, চিকিৎসকের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪ মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্ণামেন্ট ফাইনাল মাতালেন কেয়া পায়েল-অমিত হাসান শেরপুরে ফুটবল ফাইনালে অমিত হাসান-কেয়া পায়েল, মাঠে দর্শকের ঢল জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম ১১৭ বছরে পা দিলেন বিশ্বের দীর্ঘজীবী নারী স্টার্কের ৬ উইকেটের জবাবে শরীফুলের ৬, রোমাঞ্চকর দিনে ১০১ রানে এগিয়ে অজিরা ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা, হবে উপনির্বাচন

‘ধর্মীয় কারণ নয়’, নদীভাঙন ঠেকাতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতার’

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

‘সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদী জনতা’ নামের একটি পক্ষ’-এমন খবর কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু তারা কারা-সে বিষয়ে এখন কেউ কথা বলছেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি তোলা একাধিক ব্যক্তি কালবেলা অনলাইনকে জানিয়েছেন, ধর্মীয় কারণে নয়, বরং ওই এলাকার কৃষকদের ধান রক্ষা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে তারা এই আয়োজন বন্ধের দাবি তুলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন মাসুম বিন নুর উদ্দিন নামের এক যুবক। তিনি ১৮ আগস্ট রাত ৭টা ২৯ মিনিটে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টার শেয়ার করেন। সেই পোস্টারে প্রথম ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ নামটি দেখা যায়। নুর উদ্দিন ৮টা ৯ মিনিটে পোস্টটি এডিট করে আরেকটি পোস্টার যুক্ত করেন। সেখানে এভাবে লেখা দেখা যায়, ‘সুনাই নদীতে আগত নৌকাবাইচ বন্ধের প্রতিবাদে পরামর্শ সভা।’ ওই পোস্টারে ঈমানি দায়িত্ববোধে সবাইকে উপস্থিত হতে বলা হয়।

‘ধর্মীয় কারণ নয়’, নদীভাঙন ঠেকাতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতার’
‘ধর্মীয় কারণ নয়’, নদীভাঙন ঠেকাতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতার’

২০ আগস্ট বারিগ্রাম বাজার মসজিদে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার পর মাসুম বিন নুর উদ্দিন একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তিনি ‘মুক্ত বাতাস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। নুর উদ্দিন নিজেই মূলত পেজটি পরিচালনা করেন।

সেই ভিডিওতে স্থানীয় আলেম এবং মুরব্বিদের কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটির অধিকাংশ বক্তব্যে নদীভাঙনের কথা এসেছে, এসেছে ধান রক্ষার কথা। কয়েক জায়গায় ধর্মীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হলেও নৌকাবাইচকে কোথাও ধর্মবিরোধী বলা হয়নি। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর বসানো হয়-এমন অভিযোগ তুলে তাকে হারাম বলা হয়েছে।

ভিডিওতে এক আলেমকে বলতে শোনা যায়, ‘এলাকার পরিবেশ সুন্দর করার লাগি, এলাকার ধর্মীয় অবস্থানরে সুন্দর লাহার লাগি, বিশৃঙ্খলা থেহে বাঁচানোর লাগি, নদী ভাঙন ঠেকানোর লাগি এটা বন্ধ করতে অইবো।’

আরেকজন মুরব্বি ভিডিওটিতে বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র কইরা একবার এক লোক মারা গেছে। একজন মহিলা মারা গেছে। নৌকাবাইচে মাইর অইছে। নদীর দুই সাইডে ধানের ছড়া লাগানো আছে। এগুলো নষ্ট হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এগুলো মেনে নেবে না। অসামাজিক খারাপ কাজ হইব। এগুলো সম্পূর্ণ হারাম কাজ। এই কাজ দ্বারা এলাকার ধর্মীয় পরিবেশ ক্ষুণ্ন হইব।’

প্রবীণ আলেম মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক কালবেলাকে বলেন, ‘এটি কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণ সামাজিক ও জনস্বার্থের বিষয়। ‘তৌহিদী জনতা’ কিংবা নাগরিক সমাজের নামে কারা ব্যানার করেছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। তবে এলাকার সচেতন নাগরিকদের মূল দাবি হলো এ অঞ্চলে আর নৌকাবাইচ আয়োজন না করা।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুই নৌকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন, এমনকি হাত-পা ভাঙার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নৌকাবাইচের পাশের এলাকায় গানের আসরকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বড় ধরনের এ আয়োজনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’

একটি পক্ষ এভাবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানালেও আরেকটি পক্ষ আবার নৌকাবাইচের পক্ষে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি কালবেলাকে বলেছেন, ‘এখানে নৌকাবাইচ হলে নদীর কোনো ক্ষতিই হবে না। আর জুয়ার আসর ঠেকাবে প্রশাসন। মাথা ব্যথা হলে আমরা তো মাথা কেটে ফেলতে পারি না। এটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এটাকে এখন থামানোর ষড়যন্ত্র চলছে।’

সূত্র: কালবেলা

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com