
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে মারফত আলী নামে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। মারফত আলী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন ওই ডিলার। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক অভিযোগসাপেক্ষে তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নে খাদ্য অধিদপ্তর কর্র্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত দুইজন ডিলারের একজন হলেন মারফত আলী। ‘আল্লাহর দান’ নামে তার অধীনে থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত উপকারভোগীদের মাঝে গত ৩১ আগস্ট থেকে আমবাগান বাজারস্থ ডিলার পয়েন্টে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ১৫টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি করা হয়। তবে এ সময়কালে বেশ কয়েকজন উপকারভোগী তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করতে না পেরে ফেরত আসেন।
আন্ধারুপাড়া গ্রামের আলবার্ট মারাকের স্ত্রী পারভীন সাংমা জানান, আগস্ট মাসের বরাদ্দকৃত চাল ক্রয় করতে গেলে তার বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেন ডিলার মারফত আলী। এসময় মারফত আলী তার রেজিস্ট্রারে চাল উত্তোলনের স্বাক্ষরও দেখান তাকে।
পারভীন আরও বলেন, আমি কোন চাল উত্তোলন করিনি এবং আমার চাল উত্তোলন কার্ডে ডিলারের কোন স্বাক্ষরও নেই। ডিলারের কাছে থাকা বইয়ে স্বাক্ষর দেখিয়ে আমাকে চাল দেয়নি।
আন্ধারুপাড়া গ্রামের মৃত কাজিমদ্দিনের ছেলে জমির উদ্দিন জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর তার বইয়ে টিপসই নেওয়া হলেও বরাদ্দের চাল তাকে দেওয়া হয়নি, এমনকি ডিলারের স্বাক্ষরও নেই তার কার্ডে।
বাতকুচি গ্রামের ছোহরাব আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের কার্ডটি খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক দ্বৈত সুবিধাভোগী বলে বাতিল করায় তিনিও চাল পাননি। তবে সুফিয়া খাতুন জানান, তার বা তার স্বামীর নামে একই পরিবারে (খানায়) সরকারী সুবিধাভোগী আর কেউ নেই। তারপরও তার নাম দ্বৈত সুবিধাভোগীর তালিকায় কেন এলো এর জবাব তাদের জানা নেই।
একই এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বরাদ্দের চাল দেওয়া হলেও গেল বরাদ্দের চাল তাকে দেওয়া হয়নি। সরেজমিনে গেলে এমন অভিযোগ করেন আরও অনেকে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুদ্দিন জানান, অন্তত ২০-২৫ জন আমাদের ফোন করে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেন, সুফিয়া খাতুনের পরিবারে আমার জানা মতে, সরকারী অন্য কোন সুযোগ-সুবিধাভোগী নেই।
তবে ডিলার মারফত আলী চাল না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সরকারের কাছ থেকে দ্বৈত সুবিধা থাকায় অনেকের কার্ড বা বরাদ্দ অধিদপ্তর থেকে বাতিল করা হয়েছে। তাই তাদের চাল দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। এসময় তিনি ফোন দিয়ে ওই ডিলারকে সতর্কও করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান। তারা জানান, লিখিত অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট ডিলার আমাদের কার্ড বাতিল করে দেবে।