1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর জুলাই থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ নালিতাবাড়ীতে ৬৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ রাজধানীর আড়াই শ চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধন, মিলবে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব ব্যাচেলর পয়েন্টের ফ্ল্যাটে আ খ ম হাসান হেলিকপ্টারে পালাবেন নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন: তারেক রহমানকে নাহিদ ইসলাম ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের সুনামগঞ্জে বিষপানে ৩ সন্তানের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক বাবা

পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাবনা: পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও জনরোষ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বিক্ষুব্ধ শত শত এলাকাবাসী একজোট হয়ে মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের (৫৫) দোতলা বাড়িতে হামলা চালান। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা তাণ্ডবে বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, নামাজ শেষে কয়েকশ মানুষের একটি মিছিল দোগাছি ইউনিয়নে অবস্থিত মোস্তফার বাড়িতে যায়। উত্তেজিত জনতা বাড়ির সীমানাপ্রাচীর, দরজা এবং জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ করার পাশাপাশি জানালার গ্রিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার আশঙ্কায় আগের দিন থেকেই বাড়িটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্ষোভের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তুলে ধরে পারভেজ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘গতকাল থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আজ জুমার পর সবাই একসঙ্গে চড়াও হলে পুলিশ চেষ্টা করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা সরে যায়। ছোট শিশুটির সঙ্গে যে পাশবিক আচরণ করা হয়েছে, তা কেউ মেনে নিতে পারছে না।’ অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি এলাকায় তার কোনো চিহ্ন না রাখার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার’-এর পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু জানান, বিচারহীনতার শঙ্কা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা থেকেই এ ধরনের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তবে এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি রোধে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটিতে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় আগেই বাড়িটির গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়, মোস্তফা ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১) শিশুটিকে ফুসলিয়ে মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে যায় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশটি প্রথমে বস্তায় ভরে খাটের নিচে এবং পরবর্তী সময়ে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মূল দুই অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মুঠোফোন থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল প্রমাণাদির ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com