
শেরপুর : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাবার মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় ২৩০ শতক ফসলি জমিতে খুঁটি গেড়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজা-ভাতিজিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। ফলে বর্তমানে জমিুলো অনাবাদি পড়ে রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের উল্লারপাড় গ্রামের গোজাকুড়া মৌজায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৈতৃক উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে ভোগদখলীয় ২ একর ৩০ শতক জমি নিয়ে মৃত মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর ভাতিজা-ভাতিজিদের বেশ কিছুদিনধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। গত ৪ আগস্ট আবু বক্কর সিদ্দিক মারা যান। এর কয়েকদিন পর ১৪ আগস্ট তাঁর ভাতিজা-ভাতিজি নজরুল ইসলাম, আবু নাঈম, আবু কাইয়ুম, ফারজানা ও শামিমা স্থানীয় আমিন ডেকে বিরোধপূর্ণ জমিতে খুঁটি গেড়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন আবু সুফিয়ান।
আবু সুফিয়ান বলেন, তাঁর বাবা জীবিত থাকাকালে কয়েক দফা বৈঠক হলেও ভাতিজারা জমি দখলে নিতে পারেননি। তাঁর দাবি, ২৩০ শতক জমির মধ্যে মাত্র ৩২ শতক তাঁর বাবা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। বাকি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে দীর্ঘদিন ভোগদখল করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের না জানিয়ে আমিন ডেকে জমি পরিমাপ করে খুঁটি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক, আব্দুল আওয়াল, জয়নাল আবেদীন ও আজগর আলীসহ কয়েকজন জানান, বিরোধপূর্ণ জমির কিছু অংশ আবু বক্কর পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন। তবে অধিকাংশ জমি তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, কিছু জমিতে আবু বক্কর জীবিত থাকাকালে এবং বাকি জমিতে তাঁর মৃত্যুর পর খুঁটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও তাঁরা সফল হননি।
তবে জমি পরিমাপে একতরফার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় আমিন রুস্তম আলী। তাঁর দাবি, দুই পক্ষের লোকজনকে সঙ্গে নিয়েই জমি পরিমাপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের নাঈমসহ কয়েকজন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে তাঁদের দাদার জমিও রয়েছে এবং সেখানে তাঁদের ওয়ারিশি অংশ আছে। তাঁদের দাবি, আবু বক্কর তাঁদের অংশ না দিয়ে একাই জমি ভোগদখল করেছেন। তাঁরা পুরো জমি চান না, নিজেদের ওয়ারিশি অংশ চান।
এ বিষয়ে আবু সুফিয়ানের দাবি, তাঁদের দাদার জমির ওয়ারিশরা নিজ নিজ অংশ আলাদাভাবে বুঝে নিয়েছেন। ফলে প্রতিপক্ষের নতুন করে ওই জমিতে দাবি করার সুযোগ নেই।
এদিকে বিরোধের জেরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করায় বর্তমানে ২৩০ শতক জমিই অনাবাদি পড়ে আছে। এতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।