
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর হাজতবাস করেছেন বাবা ও ছেলে। মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন, ঘটনাস্থল যাচাই না করেই পুলিশ প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি সত্যের পক্ষে দাখিল করেছেন বলে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোহাগপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হাজতবাস করা দুজন হলেন কৃষক সন্তোষ সরকার ও তাঁর ছেলে রাজিব সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী সন্তোষ সরকারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে গ্রামের দুই ভাই গ্রাম পুলিশ ভজন সরকার ও শিক্ষক মেঘনাথ সরকারের। এ বিরোধের জেরে ভজন সরকার চলতি বছরের ২৫ জুলাইয়ের ঘটনা উল্লেখ করে নালিতাবাড়ীর সিআর আমলি আদালতে সন্তোষ সরকার ও তাঁর চার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, মারধর, হুমকি, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, তিন লাখ টাকা মূল্যের গাছ কাটা এবং পুকুর থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ লুটের কথা উল্লেখ করা হয়।
আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন সরকার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মান্দার গাছ কাটা এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগসহ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ১৫ অক্টোবর সন্তোষ সরকার ও তাঁর ছেলে রাজিব সরকার গ্রেফতার হন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মামলায় বর্ণিত ঘটনার কোনোটি ঘটেনি। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে না গিয়েই পুলিশ একপক্ষের হয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে, যার ফলে পরিবারটি হয়রানির শিকার হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউছার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি নিজেও বিচার-সালিশ করেছেন। তাঁর দাবি, ভজন ও মেঘনাথ সরকারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপরও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চন্দন সরকার বলেন, চাঁদা দাবি ও তিন লাখ টাকা মূল্যের গাছ কাটার অভিযোগ সত্য নয়। তিনি তাঁর তদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
এদিকে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম জানান, সিআর মামলাগুলো আমার কাছে আসে না। থানা থেকে সরাসরি আদালতে পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি দুঃখজনক।