1. admin@banglarkagoj.net : admin :
  2. monirsherpur1981@gmail.com : banglar kagoj : banglar kagoj
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, পরে বৃদ্ধ জানলেন জমি বিক্রি হয়ে গেছে ৫ বছরের কাজের মূল্যায়ন করেই পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেবে জনগণ: চিফ হুইপ কান্না আর দেবী বন্দনায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা ভুয়া নিয়োগে ১৩ বছর বেতন-ভাতা, তদন্তে সত্যতা মেলায় এমপিও বাতিল আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সমাজ পরিবর্তনেও ইমামদের এগিয়ে আসতে হবে: এমপি লুনা সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কুমিল্লায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের তিন বগি লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পরই স্ট্যান্ড রিলিজ বিভাগীয় কমিশনার ঝিনাইগাতী সীমান্তে ভারতীয় মদ জব্দ

বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, পরে বৃদ্ধ জানলেন জমি বিক্রি হয়ে গেছে

  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

সিরাজগঞ্জ: বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৮৫ বছর বয়সী আজিজুল হকের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নেন স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার দুই ভাই। পরে আজিজুল জানতে পারেন, তার নামে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি তিন ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সাব-রেজিস্ট্রার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

আজিজুল হকের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে কয়েকটি কাগজে টিপসই নেন। এ সময় কালামের সঙ্গে আরও দু-একজন ছিলেন। টিপসই নেওয়ার পর বয়স্কভাতার টাকা হিসেবে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রি করা হয়। আজিজুলকে অসুস্থ দেখিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পরিবর্তে উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদন করা হয়।

দলিলগ্রহীতারা হলেন- একই গ্রামের মৃত ময়নাল সরকারের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেন। দলিলদাতা আজিজুল ওই গ্রামের মৃত মফিজ সরকারের ছেলে। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং চোখেও দেখেন না।

আজিজুলের ছেলে ফারুক সরকার বলেন, আমার বাবা মানসিক অসুস্থ। বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল কালাম ও তার দুই ভাই কৌশলে বাবার ১৪ শতক জমি লিখে নিয়েছেন। তিনি দলিল বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে নয়, আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তারা তিন ভাই ১৪ শতক জমি কিনেছেন। কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতি করা হয়নি; সরকারি বিধিবিধান মেনেই জমি নেওয়া হয়েছে।

দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আবুল কালাম জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং দাতা ও গ্রহীতাদের ছবি দিয়ে দলিল তৈরি করতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, কৌশল ও প্রতারণার মাধ্যমে দাতার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ বলেন, আজিজুলের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে গ্রহীতারা কমিশনের মাধ্যমে বাড়িতে দলিল সম্পাদনের আবেদন করেছিলেন। আবেদন মঞ্জুরের পর তার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল নাঈমকে সেখানে পাঠানো হয়। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com