
বাংলার কাগজ ডেস্ক: সরকারি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কোনো সরকার তথ্যের কারসাজি করলে তা হবে নিজের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। কারণ, সঠিক তথ্য ছাড়া সরকারের পক্ষে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তথ্য কোনো সরকারের একক সম্পদ নয়, এর মালিক জনগণ। রোববার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে বিবিএস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য বা ডেটা। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো সরকারের পক্ষে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কারণে পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা, স্বচ্ছতা, সহজলভ্যতা ও পরিমাপযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নও চলছে। বিবিএসের জনবলসংকটের বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জনবল দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও দেওয়া হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ ছাড়া রাজনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ কার্যকর হবে না। এ জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর কার্যক্রম আরও গণমুখী করতে হবে। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণের মনে কোনো ধরনের সন্দেহ তৈরি না হয়।
তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সরকারের ব্যালান্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য। যে সরকারের হাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকবে না, তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত। সরকারের কর্মসূচি সফল করতে হলে প্রথমেই সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।
ফরেনসিক অডিটের প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, অতীতের কোনো সরকারের দোষত্রুটি খুঁজে বের করাই এর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং সেখান থেকে সমাধানের যাত্রা শুরু করাই ছিল এর লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, তথ্যের উন্মুক্ততা বাড়াতে হবে। যত বেশি তথ্য উন্মুক্ত করা হবে, তত বেশি মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে। এতে কোথায় ভুল হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষ-সবার জন্য তথ্য ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। ডিজিটাল অবকাঠামো ছাড়া তথ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আগামী দিনে সরকার ও নাগরিকদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অবকাঠামো এবং এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বলেন, সরকার নীতিমালা ও উদ্যোগ নিতে পারে, কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে। বিবিএসের তথ্য ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।