1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন দীপু মনি, কারাফটকের সামনে মেয়ে ও আইনজীবী নিহতদের পাঁচজন বাংলাদেশি, চারজন একই পরিবারের সদস্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

পাহাড়জুড়ে সোনালি আভা, জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত চাষিরা

  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বান্দরবান : প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে জুম চাষের সঙ্গে যুক্ত। দূর পাহাড়ে চোখ মেললেই কোথাও সবুজে মোড়া আবার কোথাও সোনালি রঙে ঝলমল করছে পাকা ধানের ক্ষেত। সবুজ পাহাড় এখন ভাঁজে ভাঁজে রঙিন সোনালি আভায় সাজানো। পাহাড়ের পাদদেশ আর ঢালু জমিতে জুমের পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই।

এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধান বপন করা সম্ভব হয়েছে যথাসময়ে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে আশানুরূপ বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

জুমিয়ারা জানান, আদিকাল থেকেই পাহাড়ের ঢালে সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ চালিয়ে আসছেন পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারা। এই প্রাচীন কৃষি পদ্ধতির নাম জুম। সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জুমচাষীরা পাহাড় ঘুরে নির্দিষ্ট জমি নির্বাচন করেন। মার্চ মাসে জঙ্গল পোড়ানো এবং এপ্রিলের দিকে বীজ বপনের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার পালা শুরু হয়। এসব জমিতে ধানের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, মারফা, মরিচ, টক পাতা, চিনালসহ নানা সাথী ফসলও আবাদ করা হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বান্দরবান সদর হইতে রোয়াংছড়ি যাওয়ার পথে রাস্তার দু’পাশে জুম ক্ষেতে ধান পাকার উৎসব শুরু হয়েছে। সেই পাকা ধান ঘরে তুলতে জুমিয়ারা কেউ সপরিবারে, আবার কেউ কয়েকজন শ্রমিক সঙ্গে নিয়ে ভোর থেকেই দল বেঁধে পাহাড়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাথায় থাকে থুরুং (বেতের তৈরি ঝুড়ি), আর হাতে কাঁচি বা দা। প্রতিটি পাহাড়ের চূড়ায় দেখা যায় অস্থায়ী জুমঘর, যেখানে বিশ্রামের পাশাপাশি কাটা ধানসহ উৎপাদিত ফসলও সংরক্ষণ করা হয়। বছরের এই সময়ে বান্দরবানের পাহাড়ি পথে পথে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে।

জুমচাষী মংক্যপ্রু মারমা বলেন, এবার সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে। যখন বৃষ্টি দরকার ছিল, তখন বৃষ্টি হয়েছে, আবার রোদের সময় রোদ মিলেছে। তাই ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।

আরেক চাষি উখ্যাইচিং মারমা জানান, তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে জুম করেছেন। তার হিসাবে প্রতি দুই বিঘায় ১২০ আড়ি ধান পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো। তাই একসাথে দলবেঁধে খুশি মনে ধান কাঁটছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে জুম আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৩৭৮ হেক্টরে, উৎপাদন হয়েছিল ১৩ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন। ২০২২ সালে আবাদ ৮ হাজার ২৯২ হেক্টরে উৎপাদন ১১ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন। ২০২৩ সালে আবাদ ৮ হাজার ৫৪০ হেক্টরে উৎপাদন ১০ হাজার ৪৮৯ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবাদ ৮ হাজার ২৬৭ হেক্টরে উৎপাদন ১২ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে আবাদ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এমএম শাহ নেয়াজ বলেন, চলতি মৌসুমে জুম চাষের জন্য আবহাওয়া ছিল একেবারেই অনুকূলে। এপ্রিল-মে মাসে সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং পরবর্তীতে পর্যাপ্ত রোদ মেলার কারণে এবার জুমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে গতবছর বৃষ্টি বিলম্বে আসায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি। এবারে সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় জুম ফসল আশানুরূপ হবে বলে আমরা আশা করছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com