
বাংলার কাগজ ডেস্ক: এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার ফল কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় নয়; এটি নির্দিষ্ট একটি দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় পরীক্ষার খাতায় লেখার একটি হিসাব মাত্র।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, সেটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।’
তিনি বলেন, ফল প্রকাশের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনা ও হতাশার হতে পারে। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা, আর নিজের ভেতরের অস্বস্তি, সব মিলিয়ে মনে হতে পারে সবকিছু বুঝি থেমে গেল। না থামেনি। কিছুই থামেনি।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ সময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেতে পারে বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে। তাই তাদের বকাঝকা বা ভৎসনা না করে আদর ও স্নেহের মাধ্যমে পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা, ভৎসনার চাইতে দরকার একটু আদর, স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।’
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। কেন তারা পিছিয়ে পড়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর নয়, এর সঙ্গে অন্যদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, তাদের জীবনের গল্প এখনো শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার পর তারা আজকের দিনটির দিকে ফিরে তাকালে মনে হবে, সেদিন অযথাই হতাশ হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি; একসময় দেখবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, এসব শিক্ষার্থী একদিন দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের সেই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাশে আছে, ছিল এবং থাকবে।
এর আগে, সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিগত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার।
ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী তার প্রাপ্ত ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।