1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

পাইপলাইন বসিয়ে ক্ষতবিক্ষত সড়ক, ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় সংস্কার বন্ধ

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবান জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ও কলেজ সড়কটি এখন খানাখন্দে ক্ষত-বিক্ষত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই বড় হয়েছে যে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি ও কাদা জমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে রোগী, শিক্ষার্থী, পর্যটকসহ প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের পাশে রয়েছে বান্দরবান সরকারি কলেজ, জেলা সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এছাড়া নিউগুলশান, ক্যাচিংঘাটা, কালাঘাটা, বড়ুয়ার টেক, রোয়াংছড়ির পর্যটনকেন্দ্র দেবতাখুম ও রুমা উপজেলায় সংযোগ সড়ক যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, বছর দুয়েক আগেও সড়কটির অবস্থা ভালো ছিল। প্রায় তিন বছর আগে বান্দরবান পৌরসভা প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করে। তবে চলতি বছর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সমন্বিত ও টেকসই পৌর পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় পানির পাইপলাইন স্থাপনের জন্য সড়কের বিভিন্ন অংশ খনন করা হয়।

পাইপলাইন স্থাপনের পর খনন করা অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা হলেও সড়কটি পুনরায় সংস্কার করা হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে সেই মাটি দেবে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। কোথাও কোথাও সড়কটি উঁচু-নিচু ঢেউয়ের মতো হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।

বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মংসিংহাই মার্মা বলেন, এটি জেলা শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। প্রতিদিন কলেজ ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক কষ্ট হয়। ভাঙা সড়কে টমটমে চলাচলের সময় নৌকার মতো এদিক-ওদিক দুলতে হয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

হাসপাতালে এক রোগীর অভিভাবক সম্পূর্ণা চাকমা বলেন, পেটের ব্যথা নিয়ে একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসছিলাম। সড়কের ছোট-বড় গর্তে বারবার ঝাঁকুনি খেয়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে।

মাহিন্দ্রা চালক রফিক আলম ও টমটম চালক সুমন চক্রবর্তী বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী ও পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। পানির পাইপলাইন স্থাপনের নামে ভালো সড়কটি খুঁড়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। এর ওপর এবারের বর্ষা ও বন্যার পর সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়েছে। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলে আমাদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ডিপিএইচইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পাইপলাইন স্থাপনের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিপিএইচইর কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে বান্দরবান পৌরসভা। এ বিষয়ে ডিপিএইচইর নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দেকে একটি চিঠি দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে বলা হয়, বান্দরবান পৌর এলাকায় পানি সংকট নিরসন প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন স্থাপনের কারণে বিভিন্ন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি যৌথভাবে পরিমাপ করে সংশোধিত প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ক্যাচিংঘাটা-হাসপাতাল সড়কসহ পাঁচটি সড়ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চিঠি অনুযায়ী, যৌথ বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসব সড়কের ক্ষয়ক্ষতির সংশোধিত প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রাক্কলন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের জন্য ডিপিএইচইকে অনুরোধ জানিয়েছে পৌরসভা।

বান্দরবান পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বলেন, পৌরসভার যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় সড়কগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় পৌরসভার মধ্যে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবশিষ্ট পাইপলাইন স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার বিষয়েও লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com