
বান্দরবান : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে বান্দরবানে বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। তবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। পাশাপাশি পাহাড় কাটা, গাছপালা নিধন ও ঝিরি-ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে বর্তমানে ৭৯টি হোটেল ও রিসোর্ট অনুমোদিত। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩২টির। তবে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস—কোনো সংস্থার কাছেই জেলার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই।
বিশেষ করে লামার মিরিঞ্জা এলাকায় গত কয়েক বছরে রিসোর্টের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু মিরিঞ্জা এলাকাতেই প্রায় ৮৯টি রিসোর্ট রয়েছে। এর অনেকগুলোরই পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন কিংবা ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, রিসোর্ট নির্মাণের সময় পাহাড় কাটা, গাছপালা নিধন ও ঝিরি-ছড়া ভরাট করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য পাহাড়ি জলাধারে গিয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয়দের পানির উৎসও দূষিত হচ্ছে।
অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। মিরিঞ্জাসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কাঠ, বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে তৈরি অনেক কটেজে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। দুর্গম সড়কের কারণে আগুন লাগলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোও কঠিন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি বছরে ৬০টি হোটেল-রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়ন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অনুমোদনহীন আরও ২০ থেকে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার জন্য অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের দাবি, পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।