
গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকের ভাড়া বাসায় গিয়ে দিয়া বণিক নামে এক তরুণীর (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে কয়েক দফা শারীরিক সম্পর্কের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক শান্ত পালকে (২৭) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে অভিযুক্ত শান্ত পালকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মধ্যপাড়া বাজার এলাকায়। প্রায় তিন বছর ধরে তার বড় ভাইয়ের শ্যালিকা ওই তরুণীর সঙ্গে শান্ত পালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকালে ওই তরুণী কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় প্রেমিক শান্ত পালের সঙ্গে দেখা করেন। সেখান থেকে শান্ত তাকে সফিপুরের আহমদনগর এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ওই বাসায় দিনভর কয়েক দফা শারীরিক সম্পর্কের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর শান্ত নিজেই মোবাইল ফোনে তরুণীর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান বলে জানা গেছে। সেদিন রাতে তরুণীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা শান্তকে আটক করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্তে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা শান্তকে মারধর করে ভালুকা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় নিহত তরুণীর বাবা বাদী হয়ে গতকাল সোমবার কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন।
আটক শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহমদনগর এলাকায় রাজ্জাক মিয়ার বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।